বিতস্তা সেন। কলকাতা সারাদিন।
শান্ত প্রকৃতির কোলে নিরিবিলিতে দু’এক দিন কাটাতে চাইছেন? কিংবা ডুয়ার্সের কোনও অফবিট ডেস্টিনেশনের খোঁজ করছেন? তাহলে আপনার পরবর্তী ট্যুর ডেস্টিনেশন হতে পারে জলপাইগুড়ি থেকে কিছুটা দূরে পাপড়খেতি। রোজকার একঘেয়েমি, শহরের কোলাহল থেকে দূরে থাকতে নিঃসন্দেহে ঘুরে আসতেই পারেন পাহাড়ি এই গ্রামে।
এখানকার মনোরম পরিবেশ মুগ্ধ করবে আপনাকে।
এই পাপড়খেতি জায়গাটি স্থানীয়দের কাছে ফাফার খেতি নামেও পরিচিত। উত্তরের ডুয়ার্সের কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার মহকুমার সঙ্গে সংলগ্ন পাপড়খেতি একটি দারুন পিকনিক স্পট হিসেবে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে।
স্পটটি আসলে একটি বড় পাথরের পাশাপাশি একটি সেতু। ব্রিজের নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে চেল নদী। রয়েছে একটি দর্শনীয় জলপ্রপাত, ঘন জঙ্গল, একটি স্নিগ্ধ চেল নদী। আশপাশ জুড়ে অজানা পাখির ডাক এবং দূরের গ্রামগুলির দৃশ্য মন ভালো করবেই। আরও একটি বিশেষ আকর্ষনীয় জায়গা রয়েছে এই পাপড়খেতিতে। যার টানেই বারবার এই স্থানে ছুটে আসেন বহু পর্যটক।
পরিত্যক্ত বোতল দিয়ে সৃজনশীল উপায়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে একটি অংশ। এতে একদিকে যেমন পাহাড় থাকছে জঞ্জাল মুক্ত, অন্যদিকে বেশ নতুনত্ব ভিউ স্পট হিসেবে পর্যটকদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই পাপড়খেতির এই ভিউ।
বর্ষা আসতে এখনও বেশ কয়েকটা দিন বাকি। বর্ষায় উত্তরপবঙ্গের সব নদীই প্রায় আগ্রাসী রূপ নিয়ে নেয়। ভুটান পাহাড়ে বৃষ্টির কারণে তিস্তা-তোর্ষা, রায়ডাক, জলঢাকা থেকে শুরু করে তাদের শাখা নদীগুলি পর্যন্ত ভয়ঙ্কর আকার নিয়ে নেয়। বর্ষা আসার আগে এখনও কয়েকটা দিন হাতে ছুটি রয়েছে। কাজেই আর দেরি না করে বেড়িয়ে পড়ন। কটা দিন প্রকৃতির কোলে কাটিয়ে আসলে মন ভাল হয়ে যাবে।
কম খরচে যাঁরা উত্তরবঙ্গের কোথাও ঘুরে আসতে চাইছেন তাঁরা ঘুরে আসতে পারেন এই ডেস্টিনেশনে যেখানে গেলে মন ভাল হয়ে যাবে। এমনই সুন্দর জায়গাটি। বয়স্কদের নিয়েই ঘুরে আসতে পারবেন। কারণ উঁচু-নীচু এবরো খেবরো পথ নয় সেটি। একেবারে নিরাপদে ঘুরে আসা যায় নিরিবিলিতে কাটিয়ে আসা যায় কটা দিন।