প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
গ্ৰীষ্মকালে ঘাম হওয়া একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। গরমকালে বা পরিশ্রমের সময় শরীর ঘামবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি একই পরিবেশে আপনার পাশের ব্যক্তির তুলনায় আপনার শরীরে অস্বাভাবিকভাবে বেশি ঘাম দেখা যায়, তাহলে তা চিন্তার কারণ হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এই অতিরিক্ত ঘাম বড় কোনো রোগের পূর্বাভাস হতে পারে।
তাই এমন লক্ষণ দেখা গেলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কীভাবে বুঝবেন অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছে?
গরমকালে শরীরে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক হলেও, হঠাৎ করে ঘামের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই লক্ষণ কোনো শারীরিক অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে।
অতিরিক্ত ঘামের নেপথ্যে যে কারণগুলি থাকতে পারে:
১) মেটাবলিজম: সাধারণভাবে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হারের উপর ঘামের পরিমাণ নির্ভর করে। যাদের শরীরে মেটাবলিজমের হার বেশি, তাদের বেশি ঘাম হতে পারে। তবে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক।
২) হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ করে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের একটি লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে অস্বাভাবিক ঘাম দেখা যায়।
৩) ডায়াবেটিসে শর্করার অভাব: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কোনো রোগীর রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) শরীরে ঘামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
৪) উচ্চ রক্তচাপ: কোনো রোগীর রক্তচাপ হঠাৎ করে বেড়ে গেলে (হাইপারটেনশন) তিনি অতিরিক্ত ঘামতে শুরু করতে পারেন।
৫) উদ্বেগ: অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণেও ঘাম হতে পারে। কারণ এটি উদ্বেগের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ব্যক্তিদেরও বেশি ঘাম হতে দেখা যায়।
৬) মহিলাদের মেনোপজ: মহিলাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।
৭) উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড: কোনো ব্যক্তির রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে এমনটা হতে পারে বলে জানা গেছে।
হঠাৎ ঘাম হলে কী করবেন:
শরীরের ঘামের সাথে সাথে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও বাই-কার্বনেটের মতো প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে যায়, ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই, এই সময় জলের সাথে পাতিলেবুর রস, সামান্য নুন ও চিনি মিশিয়ে শরবত পান করা উপকারী।
এছাড়াও, গরমকালে দইয়ের ঘোল অথবা ডাবের জল পান করতে পারেন। কোল্ড ড্রিংকসের পরিবর্তে সতেজ ফলের জুস খান।
পাশাপাশি, থাইরয়েডের সমস্যা আছে কিনা তা পরীক্ষা করানো উচিত। সেইসাথে আয়োডিনযুক্ত খাবার যেমন ব্রকলি, রেড মিট, সাদা পেঁয়াজ ও খাবার লবণ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়াও, চা-কফি কম পান করা বুদ্ধিমানের কাজ।
অতএব, গ্রীষ্মকালে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘাম হলে বিষয়টিকে হালকাভাবে না নিয়ে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে বড় কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।