সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“এসআইআর মানে সাইলেন্ট ইনভিজিবল রিগিং! মানুষ ভোট দিতে পারছে না, অথচ কুকুর ও ট্রাক্টরের নামে রেসিডেনশিয়াল সার্টিফিকেট ইস্যু হচ্ছে!” এভাবেই বুধবার সংসদের বাইরে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন। তিনি বলেন, “এই পদ্ধতি আসলে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিজেপি জানে তারা জনভিত্তি হারিয়েছে, তাই ভোটারদের নাম কেটে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।”
বিহারের চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া চলছে ভোটার তালিকায় ঠিক একই কায়দায় বাংলাতেও সেই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য বিজেপির নির্দেশে জাতীয় নির্বাচন কমিশন চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকায় “কুত্তা বাবু”-র নাম রয়েছে, যার বাবা “কুত্তা বাবু” ও মা “কুটিয়া দেবী”! তিনি প্রশ্ন তোলেন – “এই কুকুর কি বাংলাদেশ থেকে এসেছে? এ কি অনুপ্রবেশকারী?”
তিনি বলেন, “যারা সরকারের প্রশ্ন তোলে, তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। বিহারে যে ঘটনা ঘটেছে, তার প্রভাব তারা বাংলায় আনতে চাইছে। কিন্তু মনে রাখা উচিত, বাংলা আর বিহার এক নয়।”
বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, “যারা দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে, এনআরসি, নোট বাতিল করেছে, তারাই এখন নেহরু-ইন্দিরাকে দোষারোপ করছে। যাদের সময়ে পাহেলগামে হামলা হয়, তারাই এখন দেশপ্রেমের বুলি আওড়াচ্ছে। বাংলায় অনুপ্রবেশের গল্প ফেঁদে চলেছে কেন্দ্র। অথচ প্রশ্ন হল, বিএসএফ, সিআইএসএফ-এর অধীনেই তো সীমান্ত সুরক্ষা! গরু তো জুতোর ভিতর দিয়ে চলে না, বিএসএফ-এর মদতেই পাচার হয়। তবু আজ পর্যন্ত একজন বিএসএফ বা সিআইএসএফ আধিকারিককে সিবিআই বা ইডি ডাকেনি।”
‘মজবুত সরকার’ নয়, ‘মজবুর সরকার’
তিনি অভিযোগ করেন, “২০১৪-র আগে যিনি বলতেন, ভারত ‘রিমোট কন্ট্রোল’ সরকার দ্বারা চালিত হচ্ছে, আজ তার সরকারের রিমোট কন্ট্রোল ওয়াশিংটনে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যদি যুদ্ধ বন্ধ করতে বলেন, তবে আমাদের সেনা কেন থেমে যায়?আজকের প্রধানমন্ত্রী দুর্বল, তার সরকার ‘মজবুত’ নয়, বরং ‘মজবুর’। ভারতীয়দের স্বপ্ন, আশা, আকাঙ্ক্ষার কোনও দাম নেই, সব কিছুই ট্রাম্প নির্ধারণ করছেন!”
অভিষেক দাবি করেন, “স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিউ-এর আড়ালে আবার এনআরসি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ২০০৪ সালের পর ভোটার হলে, বাবা-মায়ের জন্ম প্রমাণপত্র চাওয়া হচ্ছে! এটা ঠিক এনআরসি-এর মতোই। এটা এনআরসি-র ব্যাকডোর এন্ট্রি। আধার কার্ড গ্রহণ করা হচ্ছে না, অথচ ভুয়ো রেসিডেনশিয়াল সার্টিফিকেট গ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন। এটা করা হচ্ছে ভুয়ো ভোটার ঢোকানোর জন্য।”
২০২৬-এ আরও ভালো ফল করবে তৃণমূল
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “২০২১-এ বিধানসভা, ২০২৩-এ পঞ্চায়েত এবং ২০২৪-এর লোকসভায় আমরা লড়ে জিতেছি। এবার ২০২৬-এ আরও ভালো ফল হবে। মানুষ আমাদের উপর আস্থা রাখে। বিজেপি যত চক্রান্ত করুক, বাংলার মানুষ তাঁদের জবাব দেবেই।” সেই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “যদি একজনেরও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, আমরা দিল্লির রাস্তায় আন্দোলনে নামব। দু’কোটি নয়, যদি দু’জনের নামও বাদ যায়, আমরা দেখে নেব। বাংলার সঙ্গে অন্য রাজ্যের ফারাক এখানেই।” পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, “জাতীয় নির্বাচন কমিশন যদি সাহস রাখে, আমার বিরুদ্ধে কেস করুক। আমি দাঁড়িয়ে আছি। ওরা শুধু বিজেপির হয়ে কাজ করছে।”