রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতায় ধৃত বাংলাদেশি মডেল শান্তা পাল! চর সন্দেহে চাঞ্চল্য, পুলিশের নজরে বিদেশ ভ্রমণ, নাথুলা, ইনফ্লুয়েন্সার কভারের আড়ালে রহস্যঘেরা পরিকল্পনা!
কলকাতা থেকে গ্রেফতার হলেন বাংলাদেশি মডেল এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শান্তা পাল (Shanta Pal)। প্রশ্ন উঠছে, শুধুই মডেল না কি ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি চর (Bangladeshi Spy)? কলকাতায় বিলাসবহুল জীবনযাপন, জাল ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড, এমনকি বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ থেকে ভারতে, তারপর…
সূত্রের খবর, ২০২৩ সালে বৈধ ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন শান্তা পাল। তারপর ধীরে ধীরে শুরু হয় সন্দেহজনক কাজ। কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বিক্রমগড়ে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন তিনি। সেখানেই স্বামী এবং মা-বাবাকে নিয়ে বসবাস করছিলেন শান্তা।
কিন্তু এই থাকার পেছনে কোনও নিছক পারিবারিক কারণ ছিল না বলেই অনুমান পুলিশের। শান্তা পাল ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছিলেন, এমনকি ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড জালিয়াতি করে তৈরি করেছিলেন। এসব তথ্য সামনে আসতেই তদন্তের রাশ টেনে ধরেছে গোয়েন্দা সংস্থা।
বিলাসবহুল ভ্রমণ ও সেনসিটিভ লোকেশন ভ্লগ!
শান্তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ তার ট্রাভেল ভ্লগিং অ্যাক্টিভিটি। তিনি শুধু কলকাতায় থেমে থাকেননি, বরং দিঘা, সিকিম, গ্যাংটক-এর মতো জায়গা থেকে ভ্লগ আপলোড করেছেন। এমনকি পৌঁছে গিয়েছিলেন চীন সীমান্ত সংলগ্ন নাথুলা পাসে (Nathula Pass)!
এখানে ঘুরে বেড়ানো ও ভিডিও শ্যুটিংয়ের অনুমতি কীভাবে পেয়েছিলেন তিনি, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ভারতের সেনসিটিভ সীমান্ত এলাকায় বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন গোয়েন্দা দফতর।
পাক চর জ্যোতির মতোই প্ল্যান?
পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে পাকিস্তানি গুপ্তচর জ্যোতি মালহোত্রার (Jyoti Malhotra) কেস স্টাডি। তিনিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাভেল ভ্লগার সেজে ভারতীয় সেনা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
প্রশ্ন উঠছে, শান্তা পালও কি একই কৌশলে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করছিলেন?
নথিপত্র জালিয়াতি ও ট্রাভেল এজেন্সি কানেকশন
ধৃত শান্তা পাল একাধিক ভুয়ো নথি তৈরি করেছেন। সৌমিক দত্ত নামে এক যুবককেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যিনি শান্তাকে নথি তৈরিতে সাহায্য করতেন বলে জানা যাচ্ছে।
এছাড়াও, শান্তা “আসান ট্রাভেলস” নামে একটি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ ট্রাভেল কোম্পানির বিজ্ঞাপনেও যুক্ত ছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই কোম্পানির ছত্রছায়ায় বহু বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতে আনার চেষ্টা চলছিল।
ঋণ, হোটেল ব্যবসার ছক, ইনফ্লুয়েন্সার পরিচয়ের অপব্যবহার
পুলিশ জানিয়েছে, শান্তা একটি হোটেল খোলার জন্য ঋণও নিয়েছেন। এ ছাড়া ভারতে অবস্থানকালে একের পর এক ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউব কনটেন্টে বিলাসবহুল জীবনযাপন প্রদর্শন করেন তিনি। যা সাধারণ মডেলের পক্ষে আর্থিকভাবে সম্ভব নয় বলে সন্দেহ বাড়ছে।
পুলিশের নজরে আরও বাংলাদেশি নাগরিক
তদন্তে আরও বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসছে। ভারতে আসার জন্য “মেডিকেল ভিসা”-র অপব্যবহার করতেন শান্তা, এবং আরও অনেক বাংলাদেশি নাগরিককে একই পদ্ধতিতে ভারতে পাঠানোর পরামর্শ দিতেন। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ঠিক কতজন এই পদ্ধতিতে ভারতে ঢুকেছেন এবং তাদের কোনও গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না।

এ কি শুধুই মডেল? না কি গভীরে লুকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত?
Bangladeshi Model Shanta Pal-এর গ্রেফতারি ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। ট্রাভেল ভ্লগের আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি, বিলাসবহুল জীবনযাপন, সেনসিটিভ এলাকায় ভ্রমণ—সবকিছু মিলিয়ে ঘটনা যে অনেক দূর গড়াবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
এখন দেখার, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা কত দ্রুত এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ করতে পারে।