সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
হুগলির সিঙ্গুরে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কৃষক বঞ্চনার অভিযোগে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-কে লক্ষ্য করে দেখানো হলো কালো পতাকা এবং উঠল চোর ও “জয় বাংলা” স্লোগান। ঘটনাটি ঘটেছে ডানকুনি টোল প্লাজার কাছে, যখন শুভেন্দু অধিকারী সভাস্থলে যাচ্ছিলেন।
প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, আলু চাষিদের ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং শাসক ও বিরোধী দল উভয়ের দ্বিচারিতার ফলে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি। শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ের সামনে উঠে আসে “চোর” স্লোগান এবং কৃষকদের পক্ষে “জয় বাংলা” ধ্বনি।
বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে, যখন দেখা যায়, বিজেপির কিছু নেতা-কর্মী রাস্তায় আলু ফেলে সেটি পা দিয়ে মাড়িয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে।
রাজ্যের কৃষিজ বিপণন মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,
“আমি একজন কৃষকের ছেলে। কৃষক যেভাবে রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে আলু চাষ করে, সেই আলু মাটিতে ফেলে, পায়ে মাড়িয়ে যারা প্রতিবাদ করেছে তারা আসলে কৃষকদের অপমান করেছে। শুভেন্দু অধিকারী এই অপমানের মুখ্য ব্যক্তি।”
তিনি আরও বলেন, শুভেন্দু অধিকারী কৃষকদের পাশে থাকার নাটক করছেন, অথচ বাস্তবে তাদের দুঃখ-দুর্দশার প্রতি তার কোনো সহানুভূতি নেই। বেচারাম মান্না দাবি করেন, “শুভেন্দু অধিকারীর এই আচরণ লজ্জাজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। আমি একজন কৃষকের ছেলে হিসাবে, তার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করছি।”
সিঙ্গুর, যা এক সময় কৃষক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, সেখানে এই ধরনের ঘটনা স্বাভাবিকভাবে রাজনীতিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। স্থানীয়দের মতে, শুভেন্দুর প্রতিবাদ কর্মসূচি আসলে কৃষকদের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “আমরা আলুর দাম চাই, অপমান নয়। পায়ে মাড়িয়ে কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াতে পারে না।”
এই ঘটনার ফলে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, শাসকদল কৃষকদের ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, শাসকদলের পাল্টা অভিযোগ—বিজেপি কৃষকদের অসম্মান করছে।
শুভেন্দু অধিকারী কালো পতাকা প্রতিবাদ যেন রাজনীতির চেয়ে কৃষক-ইস্যুকে সামনে এনে দিল। সাধারণ মানুষ এবং কৃষকদের প্রতি সম্মান বজায় রেখে রাজনীতি করার আহ্বান উঠছে নানা মহল থেকে।