বলিউড অভিনেত্রী ডেইজি শাহ (Daisy Shah) সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এমন একটি প্রসঙ্গ তুলেছেন, যা ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তিনি জানিয়েছেন যে কন্নড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আজও নায়িকাদের নাভিকে ঘিরে এক বিশেষ ধরনের ‘অবসেশন’ বা মোহ বজায় রয়েছে।
ডেইজি শাহ প্রথমে বলিউডে সালমান খানের সঙ্গে জয় হো ছবিতে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তবে তার আগে তিনি কন্নড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ভদ্রা ও বডিগার্ড ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। এই সময়কার অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরলেন তিনি।
ডেইজির অভিজ্ঞতা কন্নড় ছবিতে
ডেইজি জানান, যখন তিনি কন্নড় ফিল্মে কাজ করছিলেন, তাঁকে শুধু বলা হতো কোন দৃশ্যে কেমন অভিব্যক্তি (expressions) দিতে হবে। কিন্তু একই সময়ে নায়ক বা পুরুষ অভিনেতাদের চরিত্রে বিস্তৃত ব্যাকস্টোরি এবং সাবটেক্সট নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হতো।
তাঁর মতে, এর বড় একটি কারণ ছিল তিনি কন্নড় ভাষায় খুব দক্ষ ছিলেন না। ফলে পরিচালকরা হয়তো তাঁর জন্য সহজ নির্দেশনা বেছে নিতেন। তবে এর বাইরেও তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইন্ডাস্ট্রির একটি বিশেষ প্রবণতা তাঁকে অবাক করেছিল।
কন্নড় সিনেমায় নাভি অবসেশন
ডেইজি শাহ জানান, অফডে–তে তিনি টিভিতে কন্নড় গান দেখতেন। সেখানে তিনি লক্ষ্য করেন, প্রায় প্রতিটি গানে নায়িকাদের নাভিকে কেন্দ্র করে অদ্ভুত দৃশ্য দেখানো হচ্ছে।
তিনি বলেন –
“আমি এক অভিনেতার একের পর এক গান দেখলাম, আর প্রতিটিতেই নায়িকার নাভিতে ফলের সালাদ বা সবজির সালাদ তৈরি হচ্ছে। কোথাও আবার বরফ কিংবা জল ঢালা হচ্ছে নাভির উপর।”
এই অভ্যাস আজও বজায় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ডেইজি শাহ: কোরিওগ্রাফার থেকে অভিনেত্রী
ডেইজি শাহ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্যের সহকারী হিসেবে। তিনি বহু জনপ্রিয় বলিউড গানে ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসেবেও কাজ করেছেন।
পরে অভিনয়ে প্রবেশ করেন এবং প্রথমেই কন্নড় ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে সালমান খানের সঙ্গে জয় হো (২০১৪) ছবিতে নায়িকা হিসেবে বড় সাফল্য পান। এরপর তাঁকে হেট স্টোরি ৩ (২০১৫) সহ একাধিক ছবিতে দেখা যায়।
সাম্প্রতিক কাজ ও জনপ্রিয়তা
সম্প্রতি তিনি আমজাদ খানের ওয়েব সিরিজ রেড রুম–এ অভিনয় করেছেন। এই সিরিজে আরও ছিলেন অমিত গৌর, অনুজ সচদেবা, রীনা আগরওয়াল এবং রীভা চৌধুরী।
ডেইজি শুধু অভিনেত্রী নন, বরং সোশ্যাল মিডিয়াতেও যথেষ্ট সক্রিয়। তিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে নিয়মিত ভ্লগ শেয়ার করেন। তাঁর চ্যানেলের প্রায় ৪০ হাজার সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। সেখানে তিনি দৈনন্দিন জীবনযাপন, ফিটনেস রুটিন এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।
সাক্ষাৎকারে আরও কিছু মন্তব্য
ডেইজি স্বীকার করেছেন, বলিউড এবং কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির কাজের ধরণে অনেক পার্থক্য আছে। বলিউডে চরিত্রের গভীরতা নিয়ে আলোচনা বেশি হলেও, আঞ্চলিক ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক সময় নায়িকাদের শুধুমাত্র ‘গ্ল্যামার ফ্যাক্টর’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
তবে তিনি এটাও বলেন যে, আজকের দিনে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। অনেক নতুন পরিচালক নারী চরিত্রকেও গুরুত্ব দিয়ে শক্তিশালী গল্প তৈরি করছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ডেইজি বর্তমানে কিছু নতুন ওয়েব সিরিজ এবং ফিল্ম প্রজেক্টে কাজ করছেন। যদিও নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে তিনি ভক্তদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে আগামী দিনে ভিন্ন ধরণের চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে।
তিনি আরও বলেন, ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে চান। অভিনয়ের পাশাপাশি ফিটনেস এবং ড্যান্স সম্পর্কিত কনটেন্ট নিয়েও তিনি ভবিষ্যতে আরও কাজ করবেন।
ডেইজি শাহর এই মন্তব্য কন্নড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘদিনের এক প্রবণতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও অনেকের কাছে এটি বিনোদনের অংশ, তবে অনেক সমালোচকের মতে, নারীদের এমনভাবে উপস্থাপন করা শিল্পকলা নয় বরং বস্তুতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
ডেইজির সাহসী স্বীকারোক্তি শুধু একটি ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব চিত্রই নয়, বরং ভারতীয় সিনেমায় নারী চরিত্রকে আরও মর্যাদাপূর্ণভাবে উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তাও মনে করিয়ে দেয়।