শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
রাতের প্রাক্তন পরিবহনমন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে ফের নতুন শোরগোল বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই সরব হয়েছে বিজেপি। আর মদনের সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে যে, মদন মিত্রের বক্তব্য হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী মানুষদের আঘাত করেছে। যদিও মদন মিত্রের ভাইরাল হও সেই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করেনি কলকাতা সারাদিন।
বাংলা ভাষায় দেওয়া তার বক্তৃতায়, মদন মিত্র একটি হিন্দু শ্লোক আবৃত্তি করে শুরু করেছিলেন এবং তারপরে হিন্দুধর্মের বিজেপির ব্যাখ্যার সমালোচনা করেছিলেন। তবে, তিনি আরও বলেছিলেন যে তার মন্তব্যগুলি হিন্দুধর্ম সম্পর্কে বিজেপি নেতৃত্বের বোধগম্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার উদ্দেশ্যে ছিল, ধর্মকে আক্রমণ করার জন্য নয়। মদন মিত্রের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারী বলেছেন, ‘বিধায়ক মদন মিত্রের ‘ভগবান শ্রী রাম একজন মুসলিম ছিলেন, হিন্দু ছিলেন না’ এই জঘন্য দাবী হিন্দুধর্মের ইচ্ছাকৃত অবমাননা। তৃণমূল কংগ্রেস এই পর্যায়ে নেমে গেছে। হিন্দু ধর্মের উপর ক্রমাগত আক্রমণ করা হচ্ছে।’
এই প্রেক্ষিতেই দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এমন মন্তব্য করার আগে ইতিহাস এবং সময়কাল সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান থাকা খুবিই প্রয়োজন। তাঁর কথায়, ভগবান রামের জন্ম ইসলাম ধর্মের বহু আগে হয়েছিল। ফলে এই ধরনের মন্তব্য বাস্তবতা এবং ইতিহাস, দুটোর সঙ্গেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’

দিলীপ ঘোষ আরও বলেন যে, কখন কোন বিষয়ে কথা বলতে হয়, আর কীভাবে সেই কথা বলতে হয়, সে সামান্য বোধটুকু তৃণমূল নেতাদের নেই। তিনি অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে দলের অন্য নেতাদের প্রায়ই একাধিকবারই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করতে দেখা গেছে। যার ফলে বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তাঁর মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে এরকম ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ায় ও মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের পরিপন্থী নয় বরং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। সেই কারণেই মদন মিত্রর এরকম বক্তব্যকে ঘিরে তাঁরা প্রতিবাদে সরব হয়েছে।
ভাইরাল সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বেড়েছে। তবে, বিজেপির তরফ থেকে এই মুহূর্তে মূলত দিলীপ ঘোষের বক্তব্যকেই সামনে রেখে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।