সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
ভারতের অন্যতম প্রিয় আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হল পশ্চিমবঙ্গ। সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্ডিয়া ট্যুরিজম ডেটা কম্পেনডিয়াম ২০২৫ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করেছে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এমনটাই জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশি পর্যটক টানতে যে রাজ্যগুলির উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। প্রথম স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। মারাঠা মুলুকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিদেশি পর্যটক গিয়েছে ৩৭ লক্ষ। পশ্চিমবঙ্গ পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গলের শোভা দেখতে এসেছেন ৩১ লক্ষ বিদেশি পর্যটক। গত অর্থবর্ষে যত সংখ্যক বিদেশি পর্যটক ভারত ভ্রমণে এসেছিলেন, তা প্রায় ২০১৯ সালের সমান। যা ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে কোভিড বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হয়েছিল গোটা দুনিয়াকে। কোভিড পর্বের লকডাউন বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর অভিঘাত তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস থেকে ২০২২ সালের গোড়া পর্যন্ত যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই ক্ষতি সামলাতে বেশ কয়েক বছর লেগে যাবে।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি যে পশ্চিমবঙ্গ দেশের অন্যতম প্রিয় আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসাবে সামনে এসেছে। আর এটি সত্যিই একটা দুর্দান্ত মাইলফলক, যা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।’ আর এটা যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও দাবি নয়, সেটাও জানিয়ে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নিজের পোস্টে লেখেন, ‘ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রকের সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্ডিয়া ট্যুরিজম ডেটা কম্পেনডিয়াম ২০২৫ জানাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করেছে!’ অর্থাৎ বার্তা স্পষ্ট, এক্ষেত্রে নিজের ঢাক নিজে পেটাচ্ছে না সরকার। বরং কেন্দ্রীয় সরকারই এই স্বীকৃতি দিচ্ছে বলে জানিয়ে দিলেন মমতা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোভিড-পরবর্তী পর্যটন পুনরুত্থান হল উৎসব পর্যটন, ধর্মীয় পর্যটন, সভা, প্রণোদনা, সম্মেলন এবং প্রদর্শনীর পর্যটন সহ পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং প্রচারের জন্য আমাদের গৃহীত উদ্যোগের প্রতিফলন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভারতের সবচেয়ে মধুরতম অংশ পশ্চিমবঙ্গ ভ্রমণ এবং এর সৌন্দর্য, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য উপভোগ করার জন্য দেশি-বিদেশি সকল পর্যটককে স্বাগত জানাই। আমি পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই গর্বের মুহূর্ত অর্জনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করা সমস্ত পর্যটন অংশীদারদের ধন্যবাদ জানাই।’