ব্রেকিং

Popular Actress on Casting Couch: মোহিনীর বিস্ফোরক অভিযোগে চাঞ্চল্য

ভারতীয় সিনেমাজগৎ বহুবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে Casting Couch বিতর্ক নিয়ে। সম্প্রতি নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী মোহিনী (Mohini) তাঁর অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে ফের একবার এই ইস্যুকে সামনে এনেছেন। দীর্ঘ দুই দশকের কর্মজীবনে তিনি তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড়, হিন্দি—সহ বিভিন্ন....

Popular Actress on Casting Couch: মোহিনীর বিস্ফোরক অভিযোগে চাঞ্চল্য

ভারতীয় সিনেমাজগৎ বহুবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে Casting Couch বিতর্ক নিয়ে। সম্প্রতি নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় দক্ষিণ ভারতীয়....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

ভারতীয় সিনেমাজগৎ বহুবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে Casting Couch বিতর্ক নিয়ে। সম্প্রতি নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী মোহিনী (Mohini) তাঁর অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে ফের একবার এই ইস্যুকে সামনে এনেছেন। দীর্ঘ দুই দশকের কর্মজীবনে তিনি তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড়, হিন্দি—সহ বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছেন। তাঁর অভিনয় দক্ষতা, সৌন্দর্য ও বহুমুখী চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে দর্শকের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দিয়েছিল।

তবে গ্ল্যামার জগতের ঝলমলে আলোয় ঢাকা থাকে অনেক অন্ধকার দিক, যার মধ্যে অন্যতম হলো Casting Couch। মোহিনীর বক্তব্যে সেই তিক্ত বাস্তবই ফুটে উঠেছে।

 

মোহিনীর শুরুর দিন এবং জনপ্রিয়তা

নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণী সিনেমায় যে কয়েকজন নায়িকা নিজের অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মোহিনী। তিনি একাধিক বিখ্যাত অভিনেতার সঙ্গে কাজ করেছেন—শিবাজী গণেশন, চিরঞ্জীবী, মোহনলাল, মাম্মুটি, বিজয়কান্ত, বিষ্ণুবর্ধন প্রমুখ।
তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে চিন্না মারুমগল, আদিত্য ৩৬৯, হিটলার, নাডোডি, ইন্নাথে চিন্থা বিশায়ম, ভেশাম, অরু মারাভাথুর কানভু ইত্যাদি। শুধু আঞ্চলিক সিনেমাতেই নয়, তিনি হিন্দি সিনেমা ডান্সার (১৯৯১)-এ অক্ষয় কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন।

‘কানমনি’ সিনেমার শুটিং অভিজ্ঞতা

১৯৯৪ সালে পরিচালক আর কে সেলভামনি নির্মাণ করেছিলেন কানমনি নামের একটি রোম্যান্টিক ড্রামা। এই ছবিতে প্রশান্তের বিপরীতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন মোহিনী। সিনেমার গান উদাল থাঝুভা-তে কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্য ছিল, যা নিয়ে পরবর্তীতে প্রবল সমালোচনা হয়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মোহিনী জানান, তাঁকে ছবির কিছু দৃশ্যে অভিনয় করার জন্য চাপে ফেলা হয়েছিল। তিনি বলেন—
“প্রথমে আমি বারবার অস্বীকার করি, কেঁদে কেটে বলি আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি না। কিন্তু প্রযোজনার ক্ষতি হবে বলে আমাকে জোর করে রাজি করানো হয়। আমি এমনকি সুইমিং স্যুট পরার দৃশ্য করতে অস্বীকার করি, কারণ আমি সাঁতার জানি না এবং একজন নারী প্রশিক্ষক ছাড়া পুরুষ প্রশিক্ষকের সামনে শুট করা আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল।”

তাঁর কথায় স্পষ্ট, অনেক সময় নারী শিল্পীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তাঁদের দিয়ে কাজ করানো হয়, যা মানসিকভাবে ভীষণ চাপ তৈরি করে।

 

Casting Couch বাস্তবতা

মোহিনীর অভিজ্ঞতা একক ঘটনা নয়। এর আগে বহু ভারতীয় অভিনেত্রী প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন যে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পেতে গেলে তাঁদের প্রায়শই অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রযোজক, পরিচালক বা অন্য কর্তাব্যক্তিরা সুযোগের বিনিময়ে ব্যক্তিগত দাবি চাপিয়ে দেন।
এই প্রবণতাকেই সাধারণভাবে Casting Couch বলা হয়। মোহিনীর বক্তব্য আবারও প্রমাণ করে যে সিনেমাজগতের আড়ালে এই অস্বস্তিকর বাস্তব আজও বিদ্যমান।

 

মোহিনীর অবস্থান

যদিও তিনি অনিচ্ছাসত্ত্বেও কানমনি সিনেমার জন্য কিছু দৃশ্যে অংশ নিয়েছিলেন, তবুও পরবর্তীতে স্পষ্ট জানিয়ে দেন—তিনি আর কখনও এমন কিছু করবেন না যা তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন—
“আমার চরিত্র ছিল সুন্দর ও চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি সেই সম্মান পায়নি যা পাওয়া উচিত ছিল।”

এই মন্তব্য প্রমাণ করে, শিল্পীরা শুধুমাত্র ক্যামেরার সামনে নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও নানা রকম মানসিক লড়াইয়ের সম্মুখীন হন।

বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা

আজকের দিনে যখন #MeToo আন্দোলন সমাজে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, তখন মোহিনীর বক্তব্য আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে নারীরা কতটা চাপে পড়ে নিজেদের ক্যারিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হন। একইসঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের জন্য সতর্কবার্তা যে, স্বপ্ন পূরণের পথে কখনও নিজের সম্মান ও ইচ্ছার সঙ্গে আপস করা উচিত নয়।

অভিনেত্রী মোহিনীর অভিজ্ঞতা সিনেমা জগতের অজানা অন্ধকার দিক উন্মোচিত করেছে। ঝলমলে আলো, সাফল্য, নাম-যশের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক বেদনাদায়ক গল্প, যার একটি প্রকাশ করলেন তিনি। তাঁর এই স্বীকারোক্তি কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রির প্রতি একটি বার্তা—নারীর সম্মান ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে কখনও আপস করা উচিত নয়।

আজকের খবর