শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
বিহার জয়ের পর এবার সরাসরি নজর বাংলা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগাম যুদ্ধ ঘোষণা করল বিজেপি। দলীয় সূত্রের খবর, এবার (BJP Mission Bengal 2026) কেবল স্লোগান নয়, বাস্তব রাজনৈতিক পরিকল্পনা। আর তাই জেলা ধরে ধরে সিনিয়র নেতা এবং মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন (BJP Senior Leader Deployment in Bengal) করে মাঠে নামছে গেরুয়া শিবির।
সূত্রের দাবি, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলা সংগঠনকে ছয়টি অঞ্চলভাগে (Six-Zone Strategy) বিভক্ত করেছে। প্রতিটি অঞ্চলে বসানো হচ্ছে এক বা একাধিক অভিজ্ঞ নেতা, যাঁরা অতীতে কঠিন নির্বাচনী পরিস্থিতিতে দলকে জয় এনে দিয়েছেন। লক্ষ্য— বুথ থেকে জেলা, জেলা থেকে রাজ্য— ধাপে ধাপে তৃণমূলের সংগঠনকে টক্কর দেওয়া।
এবার দেখে নেওয়া যাক কোন অঞ্চলে কোন নেতার দায়িত্ব 👇
রাঢ় বঙ্গ — পবন সাই ও ধন সিং রাওয়াত
বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান— এই অঞ্চলেই ২০১৯ সালে বিজেপির ভোটবাক্সে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছিল। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখানে দায়িত্ব দিয়েছে ছত্তীসগড়ের সাংগঠনিক নেতা পবন সাইকে (Pavan Sai BJP)। তাঁকে সঙ্গ দেবেন উত্তরাখণ্ডের মন্ত্রী ধন সিং রাওয়াত (Dhan Singh Rawat BJP)।
এই অঞ্চলকে বিজেপির কোর ব্যাটল গ্রাউন্ড (Core Battle Zone) হিসেবে দেখা হচ্ছে।
🔹 হাওড়া–হুগলি–মেদিনীপুর — পবন রানা, সঞ্জয় ভাটিয়া ও জে পি এস রাঠৌর
এই তিন জেলার সবচেয়ে বড় দায়িত্বে রয়েছেন দিল্লির সংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক পবন রানা (Pawan Rana BJP)। তবে জেলাভিত্তিক ভাগেও বাড়তি কৌশল দেখা যাচ্ছে।
হাওড়া–হুগলি: দায়িত্ব পেলেন হরিয়ানার সিনিয়র নেতা সঞ্জয় ভাটিয়া (Sanjay Bhatia BJP)
দুই মেদিনীপুর: দায়িত্ব পেলেন উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী জে পি এস রাঠৌর (JPS Rathore BJP)
বিশেষত পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির “প্রেস্টিজ ফাইট” (Prestige Battle With TMC)— তাই এখানে নজর সর্বাধিক।
কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা — এম সিদ্ধার্থন ও সি টি রবি
এই অঞ্চল নিয়ে বিজেপির সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিশেষত দক্ষিণ কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বুথ সংগঠন দুর্বল (Weak Booth Structure)— ফলে ভোট সংখ্যা কমে যায়।
সংগঠনে গতি আনতে এবার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে—
হিমাচলের সাংগঠনিক নেতা এম সিদ্ধার্থন (M Siddharthan BJP)
কর্ণাটকের তরুণ মুখ সি টি রবি (C T Ravi BJP)

তাঁদের লক্ষ্য— শহুরে মধ্যবিত্ত ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলে (Voter Psychology Rebuilding)।
নবদ্বীপ ও উত্তর ২৪ পরগনা — এন মধুকর ও সুরেশ রানা
মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সংগঠন দুর্বল হওয়ায় সেই ভোট পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। এবার এই পরিবর্তনের দায়িত্ব পেলেন:
অন্ধ্রপ্রদেশের সাংগঠনিক নেতা এন মধুকর (N Madhukar BJP)
উত্তরপ্রদেশের অভিজ্ঞ নেতা সুরেশ রানা (Suresh Rana BJP)
এলাকা ভরসা করে বিজেপির লক্ষ্য— (Matua Vote Consolidation)।