শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরে দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট ভাষায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে কোনভাবেই বাংলার ১০০ দিনের প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা যাবে না। তারপরেও বাংলার গরীব মানুষের টাকা কেন আটকে রাখছে কেন্দ্রীয় সরকার? অবিলম্বে বাংলার প্রতি কেন্দ্রের সরকারের এই রাজনৈতিক বঞ্চনা বন্ধ করতে হবে। এমন দাবি তুলে আজ সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সংসদের ভিতরে ও বাইরে তুমুল প্রতিবাদে সামিল হলেন তৃণমূলের রাজ্যসভা এবং লোকসভার সাংসদরা।
সোমবার অধিবেশনের শুরু থেকেই সোচ্চার হয় তৃণমূল৷ অধিবেশন শুরুর আগেই দিল্লির বিজয়চক থেকে সংসদ পরিসর পর্যন্ত বিক্ষোভ-মিছিল করেন তৃণমূল সাংসদেরা৷ হাতে ছিল বাংলার বকেয়া টাকার দাবি-সংবলিত পোস্টার৷ প্রতিবাদ-মিছিলে শামিল হন লোকসভার চিফ হুইপ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্র, শর্মিলা সরকার, প্রতিমা মণ্ডল, কীর্তি আজাদ, বাপি হালদার, মিতালি বাগ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্য সাংসদেরা৷ দিল্লির রাজপথে নেমে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল সাংসদেরা সাফ জানিয়ে দিলেন, যতদিন পর্যন্ত না বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প খাতে বাংলার বকেয়া ২ লক্ষ কোটি টাকা দিচ্ছে মোদি সরকার, ততদিন চুপ থাকবে না তৃণমূল৷
অন্যদিকে দিল্লি সহ দেশের প্রায় প্রত্যেকটি ভারতীয় জনতা পার্টি শাসিত ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে যেভাবে বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলাদেশি অথবা রোহিঙ্গা বলে দাগিয়ে দিয়ে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের কখনো গ্রেফতার করে জেলে ভরা হচ্ছে আবার কখনও বা ডিটেনশন সেন্টার রেখে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আজ রাজ্য সভায় বাংলায় বক্তব্য রাখেন তৃণমূলের রাজ্য সভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ।

সাগরিকা রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে উঠে বলেন, আমি আজ বাংলায় বক্তব্য রাখছি বলে হয়তো আমাকে বাংলাদেশী বলে দাগিয়ে দিয়ে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। বাংলার যে সমস্ত মানুষ রোজগারের জন্য দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করতে যাচ্ছেন তারা বাংলায় কথা বললেই ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার এবং পুলিশ বিভিন্নভাবে হেনস্থা করছে এবং বাংলাদেশী সন্দেহে দাগিয়ে দিয়ে জেলবন্দী করে রাখছে। কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ রীতিমতো নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছিল বাংলা বলে নাকি কোন ভাষা নেই। বাংলায় যারা কথা বলে, তারা আদতে বাংলাদেশী ভাষায় কথা বলে। ভারতের জাতীয় সংগীত যে বাংলা ভাষায় লেখা হয়েছে সেই ভাষাকে কেন এভাবে অপমান করা হচ্ছে তার জবাব চাই। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার আজ তৃণমূলের এই তীব্র প্রতিবাদের মুখে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।