শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
ভারতের উৎপাদনশীলতার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল মারুতি সুজুকির ইলেকট্রিক গাড়ি ই-ভিটারা। মঙ্গলবার গুজরাটের হংসলপুরে সুজুকি মোটর প্ল্যান্টের কারখানার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই কারখানায় তৈরি হবে অত্যাধুনিক হাইব্রিড ব্যাটারি ইলেকট্রোলাইট এবং এখান থেকেই শুরু হবে মারুতি সুজুকির প্রথম আন্তর্জাতিক ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক গাড়ির রফতানি।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে দেশীয় উৎপাদনের ডাক দেন। তাঁর সেই বার্তার জোরেই দেশে তৈরি পণ্যের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থানও আরও শক্তিশালী হয়েছে। গুজরাটের হংসলপুর থেকে মোদীর ভাষণে উঠে এল সেই আত্মবিশ্বাসই। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন— “আজ থেকে ভারতে তৈরি ইলেকট্রিক গাড়ি ১০০টিরও বেশি দেশে রফতানি হবে। একইসঙ্গে হাইব্রিড ব্যাটারি ইলেকট্রোলাইট উৎপাদনও শুরু হল। ভারত এখানেই থামবে না, ভবিষ্যতের শিল্প খাত যেমন সেমিকন্ডাক্টর, তাতেও ভারত নেতৃত্ব দেবে।”
ই-ভিটারা: বিশ্ববাজারের জন্য ভারতীয় উপহার
মারুতি সুজুকির ব্যাটারিচালিত ই-ভিটারা হবে ভারতের অন্যতম বড় অবদান বিশ্ববাজারে। এই ইলেকট্রিক SUV ইতিমধ্যেই জাপান ও ইউরোপ সহ ১০০টিরও বেশি দেশে রফতানির পরিকল্পনা নিয়েছে কোম্পানি। এর ফলে বৈশ্বিক অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে ভারতের ভূমিকা নতুন করে নজরে আসবে।
গুজরাটের শিল্পে নতুন উত্থান
হংসলপুরে মারুতি সুজুকির এই কারখানায় প্রতি বছর প্রায় ৭.৫ লক্ষ গাড়ি তৈরি হয়। এই বিপুল উৎপাদন ক্ষমতা ভারতের শিল্পশক্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় হেলিকপ্টার থেকে তোলা কারখানার ছবিতে লম্বা সারি গাড়ির দৃশ্যই যেন ভারতের উৎপাদনশীলতার প্রতীক হয়ে উঠল।

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র ভবিষ্যৎ দিশা
প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— ভারত এখন শুধু নিজের জন্যই তৈরি করবে না, বরং বিশ্ববাজারের জন্যও হয়ে উঠবে অন্যতম প্রধান ম্যানুফ্যাকচারিং হাব। সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রিক ভেহিকল, হাইব্রিড টেকনোলজি— সব ক্ষেত্রেই ভারত নেতৃত্বের জায়গা নিতে চাইছে। এই পদক্ষেপের ফলে বিদেশি বিনিয়োগ যেমন আসবে, তেমনই দেশের লাখ লাখ মানুষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
মারুতি সুজুকির ই-ভিটারা উদ্বোধন শুধু একটি ইলেকট্রিক গাড়ি রফতানির খবর নয়, এটি ভারতের শিল্পোন্নয়নের প্রতীক। গুজরাট থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা প্রমাণ করছে— ভারত আর কেবল ভোক্তা নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় এক উৎপাদক শক্তি। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র এই নতুন অধ্যায় নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।