রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
সোনারপুরে চাঞ্চল্য ছড়াল ধর্ষণ ও গোপন ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে এক সরকারি আধিকারিক গ্রেফতার হওয়াকে ঘিরে। ধৃত ব্যক্তি ভূমি সংস্কার দফতরের কর্মী বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, নাবালিকাকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করার পাশাপাশি গোপন ছবি ও ভিডিও তুলে রেখে ব্ল্যাকমেল করতেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলি কয়েক বছর আগের, যখন নির্যাতিতা নাবালিকা ছিল। বর্তমানে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক। সম্প্রতি তাঁর বিয়ে ঠিক হওয়ার পরই ফের শুরু হয় হুমকি ও ব্ল্যাকমেল। অভিযোগ, অভিযুক্ত হবু বরের বাড়িতে গিয়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে বিয়েতে বাধা দেন। এরপরই নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার সোনারপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। যেহেতু ঘটনার সময় নির্যাতিতা নাবালিকা ছিল, তাই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণ ও ফৌজদারি হুমকির একাধিক ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে নির্যাতিতার বাবা অভিযুক্তের বাড়িতে পাইপলাইনের কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই দুই পরিবারের পরিচয়। অভিযুক্তকে ‘কাকু’ বলে ডাকত নির্যাতিতা। পরিবারের তরফেও তাঁর সঙ্গে মেলামেশায় কোনও আপত্তি ছিল না। সেই বিশ্বাসকেই কাজে লাগিয়ে অপরাধ সংগঠিত করা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার অজুহাতে একাধিকবার নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়। পাশাপাশি সেই সময়ের ছবি ও ভিডিও তুলে রেখে সেগুলি প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ব্ল্যাকমেল চালানো হয়। সামাজিক লজ্জা ও ভয়েই এতদিন মুখ খুলতে পারেননি নির্যাতিতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত নিজে বিবাহিত এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের কাজও চলছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে আরও তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।