রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
কয়েক হাজার একর জলা জমি রাতারাতি বুজিয়ে ফেলে বেআইনি বহুতল নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে খাস কলকাতা শহরে। দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নভাবে এমন অভিযোগ উঠতে থাকলেও আনন্দপুরে ওয়াও মোমো কারখানার আগুনে অন্তত ২৫ জন মানুষের নারকীয় ভাবে জীবন্ত দগ্ধ হওয়ার ঘটনার পরে সামনে চলে এসেছে পূর্ব কলকাতা জলাভূমি নিয়ে অসাধু চক্রের কারসাজি।
শুভেন্দু অধিকারী আগেই আনন্দপুরে বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে রীতিমতো পদযাত্রা করে অভিযোগ তুলেছিলেন সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত খেয়াদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান থেকে শুরু করে সমস্ত সদস্যকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার পাশাপাশি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করার জন্য।
এবারে সোনারপুর উত্তর বিধানসভার সংলগ্ন সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পাঁচটি ওয়ার্ড এবং দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে টার্গেট করে জলা জমি ভরাটের ঘটনায় তৃণমূল নেতাদের জড়িত থাকার প্রমাণ খুঁজতে বিশেষ নির্দেশ দিল বিজেপি।
জানা গিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে এই তদন্ত কমিটি। সোনারপুরের খেয়াদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান উপপ্রধান এবং তৃণমূল সদস্যদের পাশাপাশি কত ১০ বছরে কামরাবাদ-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এবং সোনারপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্গত কোন কোন জলা জমি ভরাট করা হয়েছে এবং বর্তমানে কোন কোন জলা জমি বা পুকুর অথবা ডোবা ভরাটের চেষ্টা চলছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের হাতে। পাশাপাশি বিশেষভাবে নজর দিতে বলা হয়েছে লাঙ্গলবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও।
এছাড়াও খেয়াদহ সংলগ্ন ভৌমিক পার্ক এলাকা, সোনারপুরের রূপনগর ঘাসিয়াড়া এলাকা, অন্যদিকে রাজপুর সংলগ্ন জগদ্দল এলাকায় রাজপুর সোনারপুর পুরসভার অন্তর্গত পাঁচ ওয়ার্ডে গত দশ বছরে কোন কোন জলাজমি ভরাট করা হয়েছে, সেগুলি সোনারপুরের ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের কোন আধিকারিক রেকর্ড পরিবর্তন করতে সাহায্য করেছেন কিনা এবং করলে কারা করেছে কত টাকার বিনিময়ে, বর্তমানে এই জমিগুলিতে কি নির্মাণ করা হয়েছে এবং তার মালিক কারা? এই সমস্ত তথ্য জরুরী ভিত্তিতে জোগাড় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি এবং সিবিআইকে দিয়ে ভোটের আগেই তদন্ত শুরু করানোর জন্য কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে পূর্ব কলকাতা জলাভূমি এবং সোনারপুরের জলাভূমি ভরাট নিয়ে যে মামলা চলছে, সেই মামলায় যুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি সোনারপুর গ্রামীণ এলাকায় পুকুর ভরাট এবং জলা জমি ভরাট করে বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইন তৈরি করতে ইতিমধ্যেই লাগানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর বার্তা সম্বলিত বিশেষ হোর্ডিং।