সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“দেখুন, এঁরা মৃত নন, দিব্যি বেঁচে আছেন। অথচ ভোটার তালিকা থেকে নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে। যারা বেঁচে আছে অথচ মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। লজ্জা রাখার জায়গা নেই। নির্লজ্জ, বেহায়া বিজেপি পার্টি এবং তাদের দালাল নির্বাচন কমিশন।” বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে সেখানে যে সমস্ত জীবিত ভোটারকে মৃত বলে দেখানো হয়েছে তাদের মধ্যে ২২ জনকে আজ ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে রীতিমত প্যারেড করিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
কমিশনের খাতায় মৃত অথচ বাস্তবে জীবিত ভোটারদের আজ ধরনা মঞ্চে উপস্থিত করার আগে মমতা বলেন, “মনে রাখবেন আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে কাজ করি। তাই আমরা খুঁজে বের করেছি। এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁরা জীবিত কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁরা মৃত। তাঁদের আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই মঞ্চে হাজির করব। এখানে ব়্যাম্পে হাঁটাব তাঁদের। ২২টি এমন পরিবার রয়েছে। প্রতিদিন আমাদের সঙ্গেই এখানে আসবেন তাঁরা।” এদিনের মঞ্চে শুধু মৃত ঘোষিত ভোটাররাই নন, ছিলেন এসআইআর প্রক্রিয়ার জটিলতায় প্রাণ হারানো পরিবারের সদস্যরাও।
বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে যেভাবে প্রায় এক কোটির বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার পথে এগোচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন তার প্রতিবাদ জানাতেই আজ থেকে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে ধরনায় বসেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, কমিশন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বেছে বেছে ভোটারদের নাম কেটে দিয়েছে। বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তা ছাড়া লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তাঁরা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কিনা ঠিক নেই। এভাবে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে তালিকার বাইরে রেখে ভোট করা অসাংবিধানিক বলে তাঁর অভিযোগ।
মমতার পাশে রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসী
রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রায় দশ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট, কিন্তু এসআইআর তালিকায় তাঁর নেই। এই অনুযোগ নিয়ে মমতার ধর্নামঞ্চে উপস্থিত হন এক সন্ন্যাসী। তাঁকে পাশে নিয়ে মমতা বলেন, “দেখুন, ওঁরা ধর্মের বড় বড় কথা বলেন।” ওই সন্ন্যাসী বলেন, “আমি রামকৃষ্ণ সারদা মিশন থেকে এসেছি। আজ ১৪ বছর হল মিনাখাঁ রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট। তা সত্ত্বেও আমার নাম বাতিল করা হয়েছে। আমি বেলুড় মঠের দশম প্রেসিডেন্ট স্বামী বীরেশ্বরানন্দের মন্ত্রশিষ্য। আমি আজ দিদির কাছে এলাম। বললাম, এ রকম যদি হতে থাকে তা হলে তো দেশের অবস্থা তো খুব খারাপ হবে।” মমতা তাকে বলেন, “কাগজগুলো দেখিয়ে দিন। ২০০২ সালেও নাম ছিল বলছেন।”
ধরনা মঞ্চেই রাত কাটাবেন মমতা
আজ বাংলার ভোটাধিকার হারানো সাধারণ নাগরিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ধর্মতলায় যে ধরনা শুরু করেছেন মমতা, সেই মঞ্চেই রাত কাটাবেন তিনি। আজ অবস্থানের শুরুতেই মনে করার কুড়ি বছর আগে থেকে এই জায়গাতে সিঙ্গুরের গরিব কৃষকদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে ২৬ দিনের যে ঐতিহাসিক ধরনা দিয়েছিলেন তার কথা।

মঞ্চ থেকেই মমতা ঘোষণা করেন, “যাঁরা থাকতে চান, থাকতে পারেন। আমরা থাকছি। আগামিকাল আবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। যাঁরা যোগ দিতে চান, তাঁরা সকাল ৯টা বা সাড়ে ৯টার মধ্যে এসে পৌঁছে যাবেন।”