সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘জব তক টাইগার মরা নেহি, তব তক টাইগার হারা নেহি।’ দিন কয়েক আগে আনুষ্ঠানিকভাবে সিপিএম থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলের আসার পরে আজ ধর্ম তলায় মমতার ধরনা মঞ্চে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েই দলনেত্রীকে বাঘিনী উপাধিতে সম্বোধন করে মন জিতে নিলেন প্রতীক উর রহমান।
শনিবার ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলের ধর্না মঞ্চ থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র নিশানা করলেন সদ্য সিপিএম ছেড়ে তৃণমূল যোগ দেওয়া প্রতীক উর রহমান।
কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্যে তীব্র আক্রমণ করে প্রতীক উর বলেন, ‘বিজেপির নেতারা দিল্লিতে গিয়ে পড়ে রয়েছে- যে পশ্চিমবঙ্গে আমরা জিততে পারছি না। তারা বলছে টাকাপয়সা, গাড়ি , বডিগার্ড দিয়েছি তারপরেও কেন জিততে পারছে না বিজেপি। উত্তরে বলা হয়েছে আসলে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে রোহিঙ্গা এসেছে তাই আমরা জিততে পারছি না। এই আমাদের ভারতবর্ষ। ভারতের ঐতিহ্যকে বিজেপি, আরএসএস এবং নির্বাচন কমিশন ভাঙতে চাইছে।’
মঞ্চ থেকেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং সামগ্রিকভাবে দেশের জাতীয় নির্বাচন কমিশন ক্ষেত্রে তীব্র আক্রমণ করে প্রতীক উর রহমান বলেন, ‘সংবিধানে লেখা থাকে উই দ্য পিপল অফ ইন্ডিয়া। এখন দুর্ভাগ্যের হলেও সত্য এই বিজেপির আসার পরে আর এই জ্ঞানেশ কুমার না ভ্যানিশ কুমার আসার পর থেকে বলা হয় হু দ্য পিপল অফ ইন্ডিয়া? নির্বাচনের আগে উই দ্য পিপল অফ ইন্ডিয়া নির্বাচনের পরে হু দ্য পিপল অফ ইন্ডিয়া? জ্ঞানেশ কুমারের অনেক জ্ঞান কিন্তু কোনও কাণ্ডজ্ঞান নেই। নির্বাচন কমিশন মানুষের কাছে দায়বদ্ধ, সেটুকু কাজ উনি করেন না। তাঁকে যেন তেন প্রকারে বিজেপির দালালি করতে হবে। মানুষের হয়রানি করতে হবে। বিজেপির স্লোগানকে এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বাস্তবায়িত করতে হবে। তার জন্য যতগুলো নাম আছে ততগুলো নাম কেটে দাও।’

অন্যদিকে, বাংলার পাঠক্রমে একেবারে ছোট বয়স থেকে সংবিধানকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানালেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে তৃণমূলের ধর্নার দ্বিতীয় দিনেও বিকালের সভায় প্রথম বক্তা ছিলেন সাংসগদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমেই তিনি উল্লেখ করেন সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকার কথা। স্পষ্ট করে দেন কীভাবে নির্বাচন কমিশন সেই তালিকা প্রকাশ না করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করা হচ্ছে।
কল্যাণ দাবি করেন, গতকাল সব বক্তব্য আমরা গতকাল রেখেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার পরে ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও একটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সুপ্রিম কোর্ট দুটি কথা বলেছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। ১০ দিনের মধ্যে যে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে তারা অ্যাডজুডিকেশন তালিকা সম্পূর্ণ করবে। দশদিন তো দূরের কথা, আজ প্রায় ১৫ দিনের উপর হয়ে গেল. এখনও পর্যন্ত শেষ তো দূরের কথা একটি সাপ্লিমেন্টরি তালিকা কিন্তু এলো না। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী মানুষেক মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সাপ্লিমেন্টরি তালিকা প্রকাশ হল না।

সেই তালিকা প্রকাশের দাবি মঞ্চ থেকে তুলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ‘অঘোষিত সূত্রে জানতে পারছি, মাত্র ৭ লক্ষ লোকের মীমাংসা হয়েছে। তার মধ্যে ৩ লক্ষ বাতিল, ৪ লক্ষ তালিকাভুক্ত। যদি সেটা সত্যি হয়, তবে নির্বাচন কমিশনের উচিত কারণ তুলে ধরে সেই তালিকা প্রকাশ করতে।’