শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘আপনারা আমাকে ভোট দিন, আমি আপনাদের তৃণমূল শাসন থেকে স্বাধীনতা দেব।’ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সুরে এভাবেই বাংলার মানুষকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তৃণমূলকে বিঁধতে এদিন মতুয়াগড়ে দাঁড়িয়ে নেতাজির উক্তি মনে করিয়ে মোদি বলেন, ‘আপনারা আমাকে ভোট দিন, আমি আপনাদের টিএমসির হাত থেকে স্বাধীনতা দেব। এই সিন্ডিকেটরাজ থেকে মুক্তি দেব। দুর্নীতি, অসুরক্ষা, বেকারত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র বিজেপি সরকার।’ বাংলায় ক্ষমতায় এলে ‘বেছে বেছে হিসেব নেওয়া হবে’ বলেও দাবি করেন মোদি।
এদিন ঠাকুরনগরের নির্বাচনী জনসভায় আগাগোড়া তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে আক্রমণ শানান মোদি। ভোটবঙ্গে বড় ফ্যাক্টর মতুয়া ভোট ব্যাঙ্ক। এদিন ঠাকুরনগরে দাঁড়িয়ে মতুয়াদের মন জয়ে মরিয়া চেষ্টা চালান মোদি। বাংলায় বিজেপি সরকারে এলেই সিএএ চালু হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন মোদি। তিনি বলেন, ‘৪ মে-র পর সব মতুয়ারা নাগরিকত্ব পাবেন। অন্যান্যদের মতোই পরিচয় পাবেন আপনারাও। মতুয়াদের কথা ভেবেই সিএএ চালু হবে।’
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, যখন পূর্ব বাংলা থেকে বিতাড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কেউ ছিল না, তখন থেকেই বিজেপি তাঁদের অধিকারের সপক্ষে লড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করতেই নাগরিকত্বের এই আবেগকে ফের উসকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম দফার ভোটে বাংলায় বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার দাবি তুলে তিনি দ্বিতীয় দফায় রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তাঁর বক্তব্য, ‘এ রাজ্যে মহিলাদের সবেচেয়ে বেশি ধোঁকা দিয়েছে তৃণমূল সরকার। তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলেন বাংলার মা-বোনেরা। এই অন্যায় আর বরদাস্ত করা হবে না, এবার অত্যাচারীদের হঠাতেই হবে।’ এই প্রসঙ্গ টেনেই মোদি বলেন, ‘মা-মাটি-মানুষের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল। এখন আর মা-মাটি-মানুষের কথা বলে না। কারণ মা-মাটির কথা বলতে গেলেই তৃণমূলের সব পাপ প্রকাশ্যে চলে আসবে।’ পাশাপাশি সন্দেশখালি ও আরজিকরের প্রসঙ্গ টেনে নারী-নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করেন মোদি।
কয়লা পাচার মামলায় ইডি তদন্তে বাধার সৃষ্টি এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে সরব হয়ে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তে এই নির্মম সরকার বারবার বাধা দেয়। কিন্তু সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূল সরকারকে সজোরে থাপ্পড় মেরেছে। তদন্তে বাধা দেওয়া এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত লোকতন্ত্রের ওপর এক ভয়াবহ আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের কাজে বাধা সৃষ্টি করা চলবে না।’

হরিপালের জনসভা থেকে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে মোদী বলেন, ‘তৃণমূল সরকার নিজেদের কুকর্মের কারণে সাধারণ মানুষের ভরসা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে। আজ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিচার পাওয়ার জন্য লোককে প্রায়ই আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে কয়লা পাচার কিংবা গরু পাচার – কোনও ক্ষেত্রেই তৃণমূল প্রশাসন সঠিক তদন্ত করেনি। ফলে বারবার আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।’