সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘জীবনে এমন দেখিনি। তা সত্ত্বেও বলছি তৃণমূলই জিতবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতব।’ বুধবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণের দিন বিকেলে ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে নিজের ভোট দেওয়ার পরে আরো একবার সরকার গঠন করার দাবী জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর আরও অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের এজেন্টদের বার করে দেওয়া হয়েছে। মারধর করা হয়েছে মহিলা এবং শিশুদের। নির্বাচন কমিশনের নাম না-করে মমতা অভিযোগ তোলেন, ‘ইজ় ইট ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন? জীবনে এমন দেখিনি। তা সত্ত্বেও বলছি তৃণমূলই জিতবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতব।’
নিজের বুথের দিকে দেখিয়ে মমতা বলেন, ‘দেখুন এখানে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোথাও রাজ্য পুলিশ নেই। বাহিনী দখল করে রেখেছে। ওদের উচিত সীমান্তে সুরক্ষা দেওয়া। দুঃখিত, আমি জীবনে এমন ভোট দেখিনি। আমার পাড়ায় ঢুকে মেয়েদের মেরেছে। অনেক জায়গায় এজেন্ট, প্রার্থীদের বার করে দেওয়া হচ্ছে।’ কলকাতার একাধিক থানার ওসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘নদিয়ার বিভিন্ন এলাকা, হুগলির আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট, পুরো ক্যানিংয়ে অত্যাচার চালানো হয়েছে। কাল রাত থেকে অত্যাচার চলছে। কাল রাত থেকে আমাদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি এমন গণতন্ত্র কোথাও দেখিনি।’
Mamata Bhabanipur: ‘প্রথম দফাতেই সেঞ্চুরি পেরিয়েছে তৃণমূল’, পাঁচ বিধানসভায় পদযাত্রার শেষে দাবি মমতার
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর হাইভোল্টেজ কেন্দ্র। সেখানে ফের মুখোমুখি লড়াইয়ে মমতা এবং শুভেন্দু। তাই সকলেরই নজর ভবানীপুরের দিকে। সাধারণত ভোটের দিন সকাল থেকে তেমন বাইরে দেখা যায় না তৃণমূলনেত্রীকে। তবে এদিন সকাল থেকে বুথে বুথে ঘুরতে দেখা যায় মমতাকে। চেতলা, চক্রবেড়িয়ার বুথে পৌঁছন। সকালে চেতলা-সহ বিভিন্ন বুথে পৌঁছে যান মমতা। কথা বলেন ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে। ভোট কেমন হচ্ছে খবর নেন। অন্য দিকে, খিদিরপুরে হনুমান মন্দিরে পুজো দেন শুভেন্দু। পরে শিবমন্দিরেও পুজো দেন তিনি। এদিন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা। চেতলার বুথে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আদালত অবমাননার নোটিস দিয়েছি। তা সত্ত্বেও কিছু অবজার্ভার এসেছে বাইরে থেকে। বিজেপি যা বলছে তাই করছে। চক্রবেড়িয়ায় গিয়ে দেখে এসো আমাদের সব পোস্টার খুলে দিয়েছে। এভাবে ভোট হয়? ভোট তো মানুষ দেবেন, পুলিশও নয়, সিকিওরিটিও নয়। আর কয়েকজনকে নতুন এনেছে। তারা যা ইচ্ছে করছে। এলাকায় সন্ত্রাস করছে।’:নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানোর কথা উঠলে ফিরহাদ হাকিম বললেন, ‘ধূর, কোনও লাভ হবে না। আমরা লড়ে নেব।’ এদিন চক্রবেড়িয়া বুথেও পৌঁছে যান মমতা। সকাল থেকে একাধিক অভিযোগ আসছে বলে দাবি। সেখানে তৃণমূলের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলের সঙ্গে সেখানে ঠায় বসে থাকেন তিনি। অন্য ভোটগুলিতে দুপুরের পর মিত্র ইনস্টিটিউশনে গিয়ে ভোট দেন মমতা। তবে এদিন সকাল থেকেই বুথে বুথে ঘুরছেন তিনি, যা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিন সকালে ভবানীপুরের বুথ পরিদর্শন করেন মমতা। চেতলা, চক্রবেড়িয়ার বুথে বুথে ঘোরেন। চক্রবেড়িয়ার একটি বুথে বেশ কিছুক্ষণ বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখান থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অত্যাচার’ নিয়ে সরব হন। মনে করিয়ে দেন তাঁর নিজের পদের কথা। মমতার কথায়, ‘মনে রাখতে হবে, আমি কিন্তু এখনও চেয়ারে আছি।’

বেশ কিছুক্ষণ কাউন্সিলর অসীম বসুর কার্যালয়ে গিয়ে বসেন। তাঁর বাড়িতেও যান। তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘’কাল রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ বাবাইয়ের (অসীম বসু) বাড়িতে যায় বাহিনী। ওর স্ত্রী বাচ্চাটাকে নিয়ে বাড়িতে একা ছিল, ও দলের কাজে বাইরে ছিল। সেটা ওর স্ত্রী জানায়। তারপরও ওরা কথা শোনেনি। বাড়ির ভিতর ঢুকে হুমকি দিয়েছে, বাবাই যেন ভোটের দিন কোনও কাজ না করে। মোবাইলও কেড়ে নেয়। এভাবে কি ভোট হয়? এখানে গুন্ডারাজ চলছে? একটা কথা মনে রাখবেন, আমাদের কর্মীরা মৃত্যুবরণ করবে, তবু কারও কাছে মাথা নত করবে না।’