উৎসবের মরশুমে জীবিকা রক্ষার বার্তা, তবে রেলের জমিতে থাকা হকারদের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত—বৈঠকের পর সামনে এল গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
দুর্গাপুজোর মুখে রাজ্যের হাজার হাজার হকার পরিবারের জন্য এল বড় স্বস্তির খবর। আপাতত উৎসবের মরশুম পর্যন্ত রাজ্যে কোনও হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Hawker Eviction Drive) আশ্বাস দিয়েছেন—এমনই দাবি করেছে হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি। এই ঘোষণার পর থেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছেন ফুটপাতের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ।
শনিবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির (Hawkers Joint Action Committee) প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ আলোচনায় উঠে আসে হকারদের বর্তমান পরিস্থিতি, জীবিকার সংকট এবং উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বেগ। বৈঠক শেষে সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অসিত সাহা (Asit Saha) দাবি করেন, দুর্গাপুজো এবং উৎসবের মরশুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও উচ্ছেদ অভিযান হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন।
অসিত সাহার বক্তব্য, উৎসবের সময় ফুটপাতের ছোট ব্যবসা বহু পরিবারের একমাত্র আয়ের ভরসা। এই সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে অসংখ্য পরিবার চরম আর্থিক সমস্যার মুখে পড়বে। সেই মানবিক দিক বিবেচনা করেই সরকার আপাতত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার আশ্বাস দিয়েছে বলে তাঁর দাবি।
হকার সংগঠনের মতে, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে পুজোর সময় সাধারণ মানুষের কেনাকাটা যেমন বাড়ে, তেমনই হকারদের ব্যবসাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই এই সময়ে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে মানুষের জীবিকার বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তবে বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও সামনে আসে। রেলের জমিতে বসে ব্যবসা করা হকারদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ ওই জমির মালিকানা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন। ফলে সেই বিষয়ে রাজ্য সরকারের সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সীমিত বলেই আলোচনা হয়েছে।
এই কারণেই হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁদের অনুরোধ, ভারতীয় রেল (Indian Railways)-এর সঙ্গে আলোচনা করে অন্তত উৎসবের মরশুম পর্যন্ত রেলের জমিতে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হোক। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা সামনে আসেনি।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গত কয়েক মাস ধরে হকার উচ্ছেদ ইস্যু নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ফুটপাত দখলমুক্ত করার দাবির পাশাপাশি জীবিকা রক্ষার প্রশ্নও সমান গুরুত্ব পেয়েছে। সেই আবহেই এই বৈঠক রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক—দুই দিক থেকেই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

অন্যদিকে, হকারদের একাংশের দাবি, উৎসবের মরশুমে ব্যবসা ভালো হলে তবেই সারা বছরের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। তাই আপাতত উচ্ছেদ না হওয়ার আশ্বাস তাঁদের কাছে বড় স্বস্তির খবর। তবে সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছেন।
এখন নজর একটাই—পুজোর আগে এই আশ্বাস কি বাস্তবে কার্যকর হবে, নাকি পরিস্থিতির মোড় আবার নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে? সেই উত্তরই খুঁজছে রাজ্যের হাজার হাজার হকার পরিবার।