প্রথম ধাপে ১,৮১০ পরিবারে রুফটপ সোলার, লক্ষ্য ৫ লক্ষ পরিবার—এসসি-এসটি-সহ আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের জন্যও বাড়তি সুবিধার ইঙ্গিত
সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
পশ্চিমবঙ্গে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর’ (PM Surya Ghar) প্রকল্প। শুধু কেন্দ্রের ভর্তুকিই নয়, তার সঙ্গে রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ফলে সাধারণ পরিবারের বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।
মঙ্গলবার এই প্রকল্পের সূচনা উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম পর্যায়েই রাজ্যের ১,৮১০টি পরিবারে রুফটপ সোলার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এখানেই থেমে থাকতে রাজি নয় সরকার। আগামী দিনে আরও দ্রুত এই প্রকল্পের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর (PM Surya Ghar) প্রকল্প ইতিমধ্যেই দেশের একাধিক রাজ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে মহারাষ্ট্র (Maharashtra) এই প্রকল্পে সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রের ভর্তুকির পাশাপাশি রাজ্যের কোষাগার থেকেও অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ১০০ ইউনিট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য কেন্দ্রের ৩০ হাজার টাকা ভর্তুকির সঙ্গে রাজ্য সরকার দেবে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা। ২০০ ইউনিটের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ৬০ হাজার টাকার পাশাপাশি রাজ্যের তরফে মিলবে আরও ১০ হাজার টাকা। আর ৩০০ ইউনিটের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ৭৮ হাজার টাকার ভর্তুকির সঙ্গে অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকা দেবে রাজ্য সরকার।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তফসিলি জাতি (SC) এবং তফসিলি উপজাতি (ST) পরিবারগুলিকেও। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এই শ্রেণির উপভোক্তারা রাজ্যের তরফে আরও ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন। ফলে তাঁদের জন্য প্রকল্পে অংশ নেওয়া আরও সহজ হবে বলে সরকারের আশা।
এখানেই শেষ নয়। শুভেন্দু অধিকারী জানান, শুধুমাত্র এসসি-এসটি নয়, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা অন্যান্য পরিবারগুলিকেও কীভাবে অতিরিক্ত সুবিধার আওতায় আনা যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
প্রথম পর্যায়ের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার নিরিখে উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas)-তে সর্বাধিক ২৩৮টি পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে। খুব কাছাকাছি রয়েছে হুগলি (Hooghly), যেখানে ২৩২টি পরিবারে ইতিমধ্যেই রুফটপ সোলার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আগামী মাসগুলিতে আরও বহু জেলায় এই সংখ্যা দ্রুত বাড়বে বলেই প্রশাসনের দাবি।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এই ঘোষণাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) তাঁর একাধিক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভবিষ্যতের রূপরেখাও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ-এর মধ্যে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১ লক্ষ পরিবারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে রাজ্য সরকার সেই লক্ষ্যেই থেমে থাকতে চায় না। বরং তা বাড়িয়ে ৫ লক্ষ পরিবারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শুধু আবাসিক বাড়িই নয়, ভবিষ্যতে সরকারি দফতর ও সরকারি অফিসগুলিতেও ধাপে ধাপে রুফটপ সোলার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে একদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে সরকারের আশা।

রাজ্যের এই ঘোষণার পর এখন সাধারণ মানুষের নজর একটাই প্রশ্নে—অতিরিক্ত ভর্তুকি কবে থেকে কার্যকর হবে এবং কীভাবে আবেদন করলে সেই সুবিধা পাওয়া যাবে? কারণ, বিদ্যুতের বাড়তি খরচের সময়ে এই প্রকল্প বহু পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার, ঘোষণার গতি মাঠের বাস্তবায়নেও একইভাবে বজায় থাকে কি না।