রাস্তা ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, নির্মাণসামগ্রী ঘরের ভিতরেই রাখতে হবে। ফাঁকা জমি অপরিষ্কার রাখলেও ছাড় নেই— শিলিগুড়ি থেকে একের পর এক কড়া বার্তা পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী [অগ্নিমিত্রা পাল (West Bengal Urban Development Minister)]-এর।
সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
আর কয়েকদিনের অপেক্ষা। তারপরই বদলে যেতে পারে শহর ও শহরতলির বহু চেনা ছবি। বাড়ি তৈরির নামে রাস্তার উপর দিনের পর দিন ইট, বালি, পাথর ফেলে রাখা— এই অভ্যাসে এবার টানতে চলেছে সরকার। ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে চলেছে নতুন নিয়ম, আর তার সঙ্গে থাকছে সরাসরি জরিমানার ব্যবস্থা।
[শিলিগুড়ি (Siliguri)]-র একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় এই বার্তাই দিলেন রাজ্যের [অগ্নিমিত্রা পাল (West Bengal Urban Development Minister)]। শুধু নির্মাণসামগ্রী নয়, বেআইনি পার্কিং, ফুটপাত দখল এবং অপরিষ্কার ফাঁকা জমি— সব ক্ষেত্রেই কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, বাড়ি নির্মাণের সময় অনেকেই রাস্তার উপর ইট, বালি ও পাথর ফেলে রাখেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়, দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে। তাই এই প্রবণতা আর বরদাস্ত করা হবে না।
অগ্নিমিত্রার কথায়, “আপনি বাড়ি করছেন বলে রাস্তা আপনার ব্যক্তিগত জায়গা হয়ে যায় না। নির্মাণসামগ্রী নিজের জমির ভিতরে রাখুন। রাস্তার উপর ফেলে রাখলে জরিমানা করা হবে।” তাঁর দাবি, নাগরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
শুধু রাস্তার দখল নয়, ফাঁকা জমি নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বহু মানুষ জমি কিনে বছরের পর বছর ফেলে রাখেন। সেই জমিতে আগাছা, নোংরা জল বা ঝোপঝাড় জমে মশার বংশবিস্তার হয়, যা আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
মন্ত্রী বলেন, “৩০ বছর পরে বাড়ি করবেন বলে এখন জমি নোংরা ফেলে রাখা যাবে না। নিজের বাড়ির মতোই ফাঁকা জমিও পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব মালিকের। আপনার জমির কারণে অন্য কেউ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হবেন, সেটা মেনে নেওয়া হবে না।”
এদিন বেআইনি পার্কিং নিয়েও ফের কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। তাঁর মতে, যেখানে-সেখানে গাড়ি বা বাইক রেখে শহরের যান চলাচল ব্যাহত করা যাবে না। নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থার বাইরে যানবাহন রাখলে জরিমানার মুখে পড়তে হবে।
এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, পার্কিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে রাজ্য সরকার একটি নতুন মোবাইল অ্যাপ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই অ্যাপের মাধ্যমে নির্ধারিত পার্কিংয়ের তথ্য জানা এবং নিয়ম মেনে পার্কিং করা আরও সহজ হবে বলে প্রশাসনের আশা।
ফুটপাত দখল নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ফুটপাতের মূল উদ্দেশ্য পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। তাই যাঁরা পুরো ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছেন, তাঁদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী [শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister of West Bengal)]-র নির্দেশ অনুযায়ী দুর্গাপুজো পর্যন্ত কোথাও হকার উচ্ছেদের অভিযান চালানো হবে না। আপাতত আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে প্রশাসন।
রাজ্যের নগর পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই ধারাবাহিক পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ। নির্মাণকাজ, পার্কিং, পরিচ্ছন্নতা এবং ফুটপাত ব্যবহারের মতো দৈনন্দিন বিষয়গুলিতে সাধারণ মানুষের ভূমিকা আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— ১ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর কতটা কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন হবে? জরিমানা কি সত্যিই অভ্যাস বদলাতে পারবে, নাকি শুরু হবে নতুন বিতর্ক? সেই উত্তরই এখন নজরে রাজ্যবাসীর।