১৮ স্কুলের অংশগ্রহণে সোনারপুরে জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুলের আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতা ‘Jyotishk 1.0’, মেধা ও সৃজনশীলতার অনন্য মঞ্চ
সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
স্কুল স্তরেই ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে থেকে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার জন্য সোনারপুরের জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুল আয়োজন করল অভিনব এক প্রতিযোগিতার। যেখানে স্কুলে পড়ার সময়ই একদিকে যেমন ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের গান বিতর্ক বা নাচের ক্ষেত্রে নিজের প্রতিভা যাচাই করে নিতে পারে অন্যান্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে, ঠিক তেমনভাবেই স্কুল স্তরেই ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ভবিষ্যতের কেরিয়ার নির্ভর শিক্ষার বীজ বপন করা এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য।
‘জ্যোতিষ্ক ১.০’ নামে এই প্রতিযোগিতায় বাংলার প্রথম সারির ১৮ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেছিল। দ্য সামিট স্কুল, টেকনো ইন্ডিয়া স্কুল থেকে শুরু করে প্রায় সমস্ত প্রথম সারির স্কুল অংশ নিয়েছে সোনারপুরের তেমাথায় জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুলের ক্যাম্পাসে আয়োজিত দুদিন ব্যাপী এই প্রতিযোগিতায়। কোথাও সুরের মূর্ছনা, কোথাও প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগ, আবার কোথাও যুক্তি ও সৃজনশীলতার অপূর্ব মেলবন্ধন—দুই দিন ধরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠেছিল প্রতিভার এক উজ্জ্বল আসর।
ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে গুরু গম্ভীর বিভিন্ন বিষয়কেও অত্যন্ত সহজ ও আকর্ষণীয় ভাবে তুলে ধরার জন্য এক একটি ইভেন্টের নামকরণ করা হয়েছিল অভিনব কায়দায়।
কোন কোন বিষয়ে ছিল জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুলের উদ্যোগে আয়োজিত এই জ্যোতিষ্ক ১.০ প্রতিযোগিতায়?
ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ছিল INNOVISION – ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে থেকে তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বের করে আনার জন্য বিভিন্ন ধরনের মডেল তৈরির প্রতিযোগিতা। এই স্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে PIXELATE – যেখানে ডিজিটাল পোস্টার মেকিং নিয়ে লড়াই করছে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা।
নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে WEBNOVA – বর্তমান সময়ে যেভাবে ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ক্যারিয়ারের একটি বড় অপশন হিসেবে উঠে এসেছে সেই সময় একেবারে স্কুল স্তর থেকেই ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এর পাশাপাশি নতুন ওয়েব পেজ তৈরির ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিভা খুঁজে বের করাই মূল উদ্দেশ্য।
বিপুল এই আয়োজন প্রসঙ্গে সোনারপুরের জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুলের প্রিন্সিপাল সুশান্ত দাস বলেন, ‘সোনারপুরের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুলের উদ্যোগে এই যে ১৮ টি প্রথম সারির স্কুল কে নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে তা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম বা দ্বিতীয় হওয়া নয় ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেদের সুপ্ত প্রতিভাকে সকলের সামনে নিয়ে আসার সুযোগ পাবে এই ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। “জ্যোতিষ্ক ১.০” প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা এই বিষয়টিকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।”
কর্মসূত্রে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় থাকলেও সেখান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগদান জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা তথা কর্ণধার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডক্টর পার্থসারথী গাঙ্গুলি। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত এই ইভেন্টের উদ্বোধন উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের প্রাক্তন অধিকর্তা তথা বিশিষ্ট মহাকাশ বিজ্ঞানী ড. দেবীপ্রসাদ দুয়ারী এবং সোনারপুরের লিভার ফাউন্ডেশনের অন্যতম কর্ণধার ডক্টর পার্থ সারথি মুখোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুলের প্রিন্সিপাল তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সুশান্ত দাস।

পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সোনারপুরের জ্যোতি শিশু বিহারের হেডমিস্ট্রেস সিলকা সিলোনি বিসওয়াল, সোনারপুর জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুলের ভাইস ডিন শিউলি নাগ, জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল জয়দীপ মিত্র এবং অস্মিতা মৃধা।

বিশিষ্ট মহাকাশ বিজ্ঞানী ড. দেবীপ্রসাদ দুয়ারী ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “জীবনে শেখার জন্য প্রশ্ন করতে কখনো ভয় পেয়ো না। বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা কর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছ থেকে নতুন বিষয়ে শেখার জন্য তাদের কাছে বারে বারে যাও।”

এই আয়োজনের মূল ভাবনায় রয়েছেন জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুলের কর্ণধার তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডক্টর পার্থসারথি গাঙ্গুলী। তাঁর বিশ্বাস, সুস্থ প্রতিযোগিতাই শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, নেতৃত্বের গুণ বিকশিত করে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। সেই লক্ষ্যেই ‘জ্যোতিষ্ক ১.০’-এর পরিকল্পনা। এত বড় আয়োজনকে সফল রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল সুশান্ত দাস। তাঁর সুচিন্তিত পরিকল্পনা, নিখুঁত সমন্বয় এবং প্রশাসনিক দক্ষতায় প্রতিটি পর্ব সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী, অভিভাবক এবং অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়গুলির আন্তরিক সহযোগিতা গোটা অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।