ব্রেকিং
  • Home /
  • ভ্রমন /
  • Shillong Travel Guide : এবারের গরমের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড শিলং থেকে

Shillong Travel Guide : এবারের গরমের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড শিলং থেকে

প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন। প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড শিলং। সবুজে ঘেরা পাহাড়, আকা-বাঁকা উঁচু-নিচু পথ, সাদা মেঘের ভেলায় ভেসে যেতে পারেন উত্তর পূর্ব ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে। চলার পথে আপনার মনে হতেই পারে ঝর্ণাই আপনাকে দেখতে এসেছে। ছোট বড় মিলিয়ে এখানে যে....

Shillong Travel Guide : এবারের গরমের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড শিলং থেকে

  • Home /
  • ভ্রমন /
  • Shillong Travel Guide : এবারের গরমের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড শিলং থেকে

প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন। প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড শিলং। সবুজে ঘেরা পাহাড়, আকা-বাঁকা উঁচু-নিচু পথ, সাদা মেঘের ভেলায়....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।

প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড শিলং। সবুজে ঘেরা পাহাড়, আকা-বাঁকা উঁচু-নিচু পথ, সাদা মেঘের ভেলায় ভেসে যেতে পারেন উত্তর পূর্ব ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে।

চলার পথে আপনার মনে হতেই পারে ঝর্ণাই আপনাকে দেখতে এসেছে। ছোট বড় মিলিয়ে এখানে যে কত ঝর্ণা রয়েছে তার হিসাব হয়তো কারো কাছেই নেই।

ঝকঝকে রোদ, হঠাৎ অন্ধকার, ঝুম বৃষ্টি। এরপর এক পশলা মেঘ এসে আপনাকে ভিজিয়ে যেতেই পারে। মেঘালয়ের প্রকৃতিটাই যেন এমন।

এককালে বাঙালির প্রিয় হাওয়াবদলের জায়গা শিলং। একে প্রাচ্যের স্কটল্যান্ডও বলা হয়। শিলং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪,৯০৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এখানকার উঁচু পাহাড় স্কটল্যান্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়।
খরচ – প্রায় ২০,০০০-২৫,০০০ টাকা।
রুট- আপনি বিমান এবং রেলপথে শিলং পৌঁছতে পারেন। শিলংয়ের নিকটতম বিমানবন্দর উমরোই প্রায় ২৫ কিমি দূরে। রেলওয়ে স্টেশন গোহাটি।
পর্যটন আকর্ষণ- এলিফ্যান্ট ফলস, শিলং পিক, ওয়ার্ডস লেক, পুলিশ বাজার, উমিয়ম লেক এবং সুইট ফলস
সেরা সময় – মার্চ থেকে জুন।

“পৃথিবীতে হয়তো দেখবার যোগ্য লোক পাওয়া যায়, তাকে দেখবার যোগ্য জায়গাটি পাওয়া যায় না..” শিলং পাহাড়ের উদ্যেশ্যে এমনই এক কালজয়ী উধৃতি শোনা যায় রবি ঠাকুরের উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’ এ।
বাঙালি শারীরিক ভাবে শিলং পাহাড়ে না গেলেও, রবি ঠাকুরের এই উপন্যাসে অমিত এবং লাবণ্যের হাত ধরে কবেই পাড়ি দিয়েছেন মেঘালয় রাজ্যের এই মনোরম স্থানটিতে। রবি ঠাকুরের লেখনী সঞ্চালনই যেন, বাঙালিকে শিলং পাহাড়ের প্রেমে ফেলতে বাধ্য করেছে। ভ্রমণপ্রিয় বাঙালি তাই তাঁদের সফরনামায় শিলংকে রাখবেন না, এমন হতেই পারে না। কিন্তু যাঁরা এখনও এই মনোমুগ্ধকর জায়গাটি ভ্রমণ করে উঠতে পারেননি, আজ তাঁদের জন্যই রইল বিশেষ পর্ব।

বিশিষ্ট এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য, বর্ষাকালে প্রকট ভাবে উপলব্ধ হয়ে থাকে। এই ফলস থেকে আপনার যাত্রাকে আরও রোমাঞ্চিত করে তোলার জন্য যেতে পারেন মোসামাই গুহা।

চেরাপুঞ্জির প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে করতেই, আপনার গাড়ি শিলংয়ের পথ ধরে ফেলবে। এবার আপনি চলতে থাকবেন সেই স্থান, যে স্থান হয়ে উঠেছে স্বয়ং রবি ঠাকুরের মানস-ভূমি! শিলং! শিলং যেতেও তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মত লাগবে আপনার পরিবহন ভাড়া। এখানেও আগে থেকে আপনার থাকার ব্যবস্থা করে গেলে, পৌঁছে আর হোটেল অনুসন্ধানের সমস্যা থাকবে না। শিলংয়ের বিখ্যাত পুলিশ বাজারের কাছে পাবেন অগণিত থাকার জায়গা। বলা যায় এটিই শিলংয়ের কেন্দ্রভূমি। পরদিন সকালে উঠেই একের পর এক সাইট সিয়িং এর উদ্যেশ্যে রওনা দিন। প্রথমে যেতে পারেন লাইট লুম। শিলং পুলিশ বাজার থেকে এখানকার দূরত্বে পৌঁছতে সময় লাগে ৪০-৪৫ মিনিট মত। নৈসর্গিক মুগ্ধতা কাকে বলে, তার জলজ্যান্ত সাক্ষ্য বহন করে এই স্থান। পাহাড়ের উপর জুড়ে রয়েছে সবুজের প্রলেপ, আর তাকেই স্পর্শ করে যায় ভাসমান মেঘের মেলা। এমন অপার্থিব দৃশ্য যেন আরও একবার আপনাকে বাধ্য করবে, শিলংয়ের প্রেমে ফেলতে।

লাইট লুম থেকে চলে যাবেন উমিয়াম লেক, এলিফ্যান্ট ফলস, শিলং ভিউ পয়েন্ট এবং লিভিং রুট ব্রিজে। তাছাড়া আপনার পথ নির্দেশক হিসেবে যেই চালক থাকবেন, তাঁর সঙ্গেও আলোচনা করে নিতে পারেন দর্শনীয় স্থান পরিভ্রমণের বিষয়ে। লাইট লুম যদি শুধু যেতে চান, তবে খরচ পড়তে পারে দেড় হাজার মত। সঙ্গে বাকি স্থানগুলিও দেখার জন্য খরচ হতে পারে আড়াই থেকে তিন হাজার।

পরেরদিন হাতে সময় নিয়ে, মেঘালয়ের অন্যতম স্বপ্নরাজ্য ডাওকির উদ্যেশ্যে গমন করুন। এক টুকরো স্বর্গ নেমে আসবে আপনার হাতের মুঠোয়। জয়ন্তী এবং খাসি পাহাড়ের মাঝের উমঙ্গোট নদী দেখলে মনে হয়, বিধাতা যেন মাটির উপর স্বচ্ছ কাঁচের গালিচা বিছিয়ে দিয়েছেন! যে কাঁচের স্বচ্ছতায় আকাশের প্রতিটি কনার প্রতিফলন থেকে, জলের নিচের এক অজানা জগতের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে! এমন স্বর্গীয় দৃশ্যের সাক্ষী হতে, শিলংয়ের সফরনামায় ডাওকি ভ্রমণ রাখতেই হবে। ডাওকি যাওয়ার জন্য পরিবহণ খরচ পড়বে তিন হাজার মত।

এছাড়াও খাওয়া দাওয়ার দিক দিয়েও শিলং বেশ শৌখিন। আমিষ, নিরামিষ সব রকমই পাওয়া যায় এই অঞ্চলে। শিলংয়ে যেমন বড় বড় রেস্তোরাও পাবেন, তেমনই সাধারণ বাঙালি খাবারের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। পুলিশ বাজার সংলগ্ন এলাকাতেই আপনি নির্বাচন করতে পারেন আপনার পছন্দসই খাদ্য তালিকা। সব মিলিয়ে, তিন অথবা চারদিনের শিলং ভ্রমণের জন্য আপনার খরচ হতে পারে দশ থেকে পনেরো হাজার টাকা। তবে এই জায়গা ঘুরে এসেও যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্মৃতি আপনার মননভূমিকে দীর্ঘ সময় অবধি দখল করে রাখবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহই নেই।

আজকের খবর