সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“অনেকে ভাবছে ইকো পার্কে হাঁটলেই বিয়ে হয়। সারা জীবন হাঁটলেও বিয়ে হবে না। বিয়ে যখন হবার তখনই হবে।” ৬১ বছর বয়সে ব্রহ্মচর্য ভেঙে বিয়ের রাত পের করে শনিবার সকালে যথারীতি মর্নিংওয়াকে এসে নিজস্ব স্টাইলে দিলীপ ঘোষ।
শুক্রবার দিনভর যাঁর বিয়ে নিয়ে চর্চা চলেছে, শনিবার সকালে পুরনো মেজাজেই তাঁকে দেখা গেল ইকো পার্কে। রুটিন মেনে সকালে প্রাতঃভ্রমণে হাজির হলেন ইকো পার্কে। গলায় হলুদ-গেরুয়া উত্তরীয় পরে জানিয়ে দিলেন, বিয়ে করলেও রাজনীতি থেকে ছুটি নিচ্ছেন না তিনি। স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারও যে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন, সে কথাও বলতে শোনা গেল দিলীপকে।
নতুন জীবনে পা রাখার পরদিনই আবার তাঁর জন্মের তিথি। তাই ইকোপার্কে মর্নিং ওয়াকারদের সঙ্গে তাঁর আজ সেলিব্রেশন। আয়োজক অবশ্য অনুগামীরাই। খাবার দাবারের ছড়াছড়ি। দিলীপ ঘোষকে নিয়ে সেলিব্রেশনে মাতলের তিনি। এই সেই ইকো পার্ক , যেখানে প্রথম সহধর্মিনীর সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন তিনি। দিলীপের প্রেম থেকে পরিণয়, জুড়ে রয়েছে ইকো পার্ক। তাই জন্ম দিবসেও তিনি এলেন এখানেই। বিয়ের পর দিনই ফের স্বমেজাজেই পাওয়া গেল দিলীপ ঘোষকে। নববিবাহিতা স্ত্রী রিঙ্কু সম্পর্কে জানালেন, “রিঙ্কু মজুমদারের সঙ্গে আগেই আলাপ হয়েছিল। উনি পুরনো পার্টি কর্মী। রাজনীতিতে উনি ২০১২ সালে এসেছেন। আমি এসেছি ২০১৫ সালে। বিয়ে করার ব্যাপারটা হঠাৎই এসেছে, আর সেটা পরিস্থিতির কারণে। সেটা হয়েও গেছে যথা সময়ে।” দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট বললেন আজ তিনি যে জায়গায় পৌঁছেছেন, তা তাঁর দলের জন্য। দলই তাঁকে বিধায়ক, সাংসদ করেছেন। রাজনীতির জন্য সঙ্ঘ প্রচারক থেকেও বাদ পড়েছেন তিনি, সেই কারণেই বিয়ে করলেন বলে জানিয়েছেন দিলীপ। তাই রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই তাঁর। লক্ষ্যও থাকবে একই রকম।
জন্মদিনে খোশ মেজাজে হাঁটলেন। শুভেচ্ছা গ্রহণ করলেন। ধন্যবাদ জানালেন প্রত্যেককেই। সদ্য বিবাহিত বিজেপি নেতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন অনুগামীরা। তাঁরা জানালেন, এদিন বিরাট আয়োজন রয়েছে। এদিন তাঁকে ঘিরে দেখা গেল তাঁর অনুগামীদের ভিড়। অনেকে বাড়ি থেকে পায়েস তৈরি করে এনেছেন। একাধিক কেক পৌঁছেছে দিলীপের জন্য। তবে পাশে নেই নববধূ। কেন এলেন না স্ত্রী রিঙ্কু? প্রশ্ন করতেই দিলীপ বলেন, “উনি মর্নিং ওয়াক করেন না। বাড়িতেই আছেন। অনেকে গল্প দিচ্ছে মর্নিং ওয়াক করতে গিয়ে নাকি প্রেম হয়েছে, যারা বলছে তারা সারাজীবন মর্নিং ওয়াক করলেও, তাদের ভালবাসাও হবে না, বিয়েও হবে না।”
শুক্রবার কুণাল ঘোষ লিখেছিলেন, “যেহেতু মর্নিং ওয়াকে নিয়মিত যেতেন ইকো পার্কে, যেহেতু ওখানেই পরিচয় থেকে আজ পরিণয়, এবং যেহেতু ওই অপূর্ব ইকো পার্কটি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সৃষ্টি, তাই এই মিলনের পিছনে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা সত্যিই অনস্বীকার্য।”

তবে দিলীপ ঘোষের বিয়ে নিয়ে রসিকতার মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দিলীপ-রিঙ্কুকে শুভেচ্ছা জানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইটে নব দম্পতির উদ্দেশ্যে অভিষেক লিখেছেন, “নতুন জীবন সুন্দরভাবে শুরু করার জন্য দিলীপ ঘোষ ও রিঙ্কু মজুমদারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। ভালবাসার নিজস্ব সময় ও লয় থাকে। আপনাদের একসঙ্গে পথচলা সেই সত্যিকারের ভালবাসারই প্রমাণ। আপনাদের জীবনে যেন আনন্দ, শান্তি ও সাহচর্য চিরকাল স্থায়ী হয়—এই শুভকামনা রইল।”