সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
ভারত সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল বিদেশ সফরে গিয়েছে। তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দলের নেতৃত্বে আছেন জেডিইউর সাংসদ সঞ্জয় ঝায়। তাঁরা ইতিমধ্যেই টোকিও পৌঁছেছেন এবং পরবর্তীতে জাপান, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর সফর করবেন। বুধবারই জাপানের রাজধানী টোকিওতে পৌঁছয় এই বিশেষ প্রতিনিধি দল। স্থানীয় সময়, বৃহস্পতিবার সকালে টোকিওর ভারতীয় দূতাবাসে পৌঁছয় বিশেষ কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল।
এদিন সকালে জাপানের ভারিতীয় অ্যাম্বাসেডর সিবি জর্জের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন তাঁরা।
এই বিশেষ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বাংলার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপি সাংসদ ব্রিজ লাল, সিপিআই (এম) সাংসদ জন ব্রিটাস, বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা ষড়ঙ্গী, বিজেপি সাংসদ হেমাঙ্গ জোশী, বিজেপি সাংসদ প্রদান বড়ুয়া, সলমান খুরশিদ এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মোহন কুমার। জনতা দলের সাংসদ সঞ্জয় ঝায়ের নেতৃত্বে জাপানে গিয়েছে এই দল। আজ, ২২ মে জাপানে বৈঠক সেরে ২৪ মে দক্ষিণ কোরিয়া পৌঁছবে এই দল।
সেখান থেকে ২৭ মে সিঙ্গাপুর, ২৮ মে ইন্দোনেশিয়া ও ৩১ মে মালয়েশিয়া হয়ে দিল্লি ফিরবেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
এ দিন সকালে কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল টোকিয়োয় ভারতীয় দূতাবাসে যান। সেখানে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর ভারতের রাষ্ট্রদূত সিবি জর্জের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন। বৈঠকে সিবি জর্জ জানান, “জাপান প্রথম দেশগুলির মধ্যে একটি যারা পহেলগাঁও হামলার পরে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আমরা আশা করি ভবিষ্যতেও জাপান সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধে ভারতের পাশে থাকবে।” এরপরে জাপানের বিদেশমন্ত্রী তাকেশি ইওয়ার সঙ্গেও দেখা করেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সঙ্গে থাকার বার্তা দেন জাপানের বিদেশমন্ত্রী। ভারত যেভাবে জবাব দিয়েছে, তার প্রশংসাও করেন। সঞ্জয় ঝা বলেন, “সবথেকে বড় সমস্যা হল সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের নীতির অংশ। এই প্রতিনিধি দলের কাজ হল পাকিস্তানের আসল রূপ বিশ্বের সামনে আনা। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে মদত দেয়, পাকিস্তানের সমর্থনেই সন্ত্রাসবাদের বাড়বাড়ন্ত।”
বিশ্বমঞ্চে পহেলগাঁও জঙ্গিহানা পরবর্তী ভারত-পাক সংঘাতের পর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করতেই বিদেশ সফরের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রাক্তন মন্ত্রী এবং কূটনীতিক সহ ৫৯ জন সাংসদ নিয়ে মোট ৭ টি প্রতিনিধি দল তৈরি করা হয়েছে। মোট ৩৩ টি দেশে যাবে এই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিদলের হাতে বিদেশ মন্ত্রক থেকে ‘ডসিয়ের’ তুলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে ভারতের স্পষ্ট বার্তা ও সফরের সূচি সংযুক্ত রয়েছে। দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে পাকিস্তানের সন্ত্রাসপন্থী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান বিশ্ববাসীর কাছে পরিষ্কার করা। বিশেষত পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি ও আদি শঙ্করাচার্যের ভূমি হিসেবে কাশ্মীরের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।
২১ মে থেকে শুরু হয়েছে বিভিন্ন দলের এই যাত্রা, চলবে আগামী ৫ জুন পর্যন্ত। যখন জাপানে রয়েছেন অভিষেকরা তখন, শিবসেনা সাংসদ শ্রীকান্ত শিন্ডের নেতৃত্বে একটি দল আরবে রওনা দিয়েছে। এই দলে রয়েছেন বিজেডি সাংসদ সম্বিত পাত্র,এসএস আলুওয়ালিয়া,বিজেপি সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ,বিজেপি সাংসদ অতুল গর্গ, আইইউএমএল সাংসদ ইটি মহম্মদ বশির এবং রাষ্ট্রদূত সুজন চিনয়।