সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
ঘাটালে বন্যা। ডুবছে স্থানীয় মানুষজনদের ঘর-বাড়ি। স্কুল-পাঠশালা লাটে উঠেছে। দুর্গতদের ভরসা ত্রাণ। আর বন্যা হতেই ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেবকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। কেন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করা হল না? সেই প্রশ্ন তুলে সাংসদকে ‘ঢপবাজ’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে।
প্রতিবছরই বর্ষায় বন্যায় ডুবে যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল। ধসে যায় একের পর এক বাড়ি, তলিয়ে যায় আপনজন, গবাদী পশু থেকে সব….। বন্যার হাত ঘাটালবাসীকে উদ্ধারের জন্যই এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান।
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় সাংসদ দেবকে নিশানা করেছেন বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। এবার তার পালটা দিলেন সাংসদ দেব। সোশাল মিডিয়ায় কেন্দ্রকে নিশানা করলেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, কেন্দ্রের অসহযোগিতার কারণেই ভোগান্তির শিকার ঘাটালের মানুষ।
বর্ষার শুরুতেই ভেসেছে ঘাটাল-সহ পশ্চিম মেদিনীপুরের একের পর এক গ্রাম। জলবন্দি প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই ঘাটাল মাস্টারপ্ল্য়ান নিয়ে দেবকে কটাক্ষ করছেন বিরোধীরা। বিজেপি বিধায়ক সোশাল মিডিয়ায় নিশানা করেন সাংসদ দেবকে। লেখেন, “এবার দেখবেন পাগলু ঘাটালে শ্যুটিং করতে আসবেন। আর কতবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন? আপনি নিজের ঢাক নিজেই বাজিয়েছিলেন। এখন মানুষ ওনাকে ঢপবাজ বলছেন। আপনি শুধু মিথ্যা কথা বলতে জানেন, অভিনয় করতে জানেন। সিনেমা আর বাস্তবকে এক মনে করেছেন। ঘাটালের মানুষ আজ জবাব চাইছে।”
রবিবার তার পালটা দিলেন দেব। সোশাল মিডিয়া পোস্টে মনে করিয়ে দিলেন তিনি বারবার কেন্দ্রের কাছে আর্জি করলেও লাভ হয়নি। কেন্দ্রকে কার্যত দুষে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কেন কার্যকত হয়নি সে কথা বলেন তৃণমূল নেতা। লেখেন, “বিগত দশ বছর ধরে লোকসভার সকল অধিবেশনে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে সপক্ষে সওয়াল করে এসেছি । অনেক চেষ্টার পরও কেন্দ্রীয় সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। ২০২৪ সালে রাজ্য সরকারই সিদ্ধান্ত নেয় এবং এক তৃতীয়াংশ বাজেট (৫০০কোটি) বরাদ্দ করে।” আর কতদিন এই প্রোজেক্ট তৈরি হতে সময় লাগবে? সেই নিয়েও জানিয়েছেন তিনি। দেব লেখেন, “ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে কাজ শুরু হয়। এই মাস্টার প্ল্যানের। ৭৮ কিলোমিটার + ৫২ কিলোমিটার নদীর ড্রেজিং থেকে শুরু করে বাঁধ,ব্রিজ ,খাল কাটা,খালের সংস্করণ,কৃত্রিম নদী তৈরি করা,জমি অধিগ্রহণ সবই আছে। যার সময়সীমা কমপক্ষে ৪-৫ বছর।”