সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বছর ঘুরলেই বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। আর আগামী বছরের শুরুতেই যেহেতু বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে তাই বিগত বেশ কয়েক বছরের মত 2026 সালে বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা নিয়ে সংশয় রয়েছে রাজ্য প্রশাসনের। তবে তার আগেই বাংলায় আরো বেশি সংখ্যক বিনিয়োগ প্রস্তাব আনার পাশাপাশি তাহলে বাস্তবায়নের জন্য সচেষ্ট হলো মুখ্যমন্ত্রী মমতার সরকার। সেজন্যই পুজোর পর হতে চলেছে বিজনেস ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভ৷ মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র।
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের তৈরি করা শিল্প সংক্রান্ত সিনার্জি কমিটির বৈঠক এদিন অনুষ্ঠিত হয় । সেই বৈঠক থেকে রাজ্যে আসা বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অমিত মিত্র। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্র এবং শিল্পসচিব বন্দনা যাদব উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। অমিত মিত্র এদিন জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত তিন মাসে স্টেট লেভেল ইনভেস্টমেন্ট সিনার্জি কমিটির বৈঠকে মোট ৩০৬৯টি শিল্প প্রকল্পকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে রিয়েল এস্টেট, তথ্যপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পর্যটন-সহ একাধিক ক্ষেত্র । এইসব প্রকল্পের সম্ভাব্য মোট বিনিয়োগের পরিমাণ এখনও নির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করা না-গেলেও, সংখ্যার বিচারে তা যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য বলেই দাবি করছেন মুখ্যমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। অমিত মিত্র বলেন, তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রকল্প নির্বাচন করতে গিয়ে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে – যেমন যেসব শিল্পের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি, যেগুলি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, রফতানি বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং যেগুলির ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক সুবিধা রয়েছে সেগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজ্য সরকার কয়েকটি নির্দিষ্ট শিল্পকে মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টিল, জেমস ও জুয়েলারি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, চিংড়ি রফতানি, মাছ ও পোলট্রি উৎপাদন, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যটন, হোসিয়ারি ও প্রস্তুত পোশাক শিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ শিল্প।
রাজ্যের চামড়া শিল্প ইতিমধ্যেই বছরে ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি করে, যা দেশের মোট রফতানির প্রায় 50 শতাংশ। এছাড়াও গত এক বছরে রাজ্য থেকে ২০.৫ মিলিয়ন ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ রফতানি হয়েছে বলে জানান অমিত মিত্র ।

তাঁর কথায়, রাজ্যের শিল্প উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ ও দিকনির্দেশ খুবই কার্যকর হচ্ছে। সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে দুর্গাপুজোর পর অনুষ্ঠিত হবে শিল্প সম্মেলন, যেখানে রাজ্যের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পক্ষেত্রগুলি ছাড়াও অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হবে। আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই কনক্লেভের আয়োজন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।