সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে শুরু হওয়া স্বয়ংসিদ্ধা প্রকল্প এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল সোনারপুরে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার হাসানপুর বিদ্যাধরপুর জুনিয়র হাই স্কুলে সোমবার অর্থাৎ ১৪ জুলাই আয়োজিত হল এক বিশেষ সচেতনতা শিবির, যেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ, শিশু সুরক্ষা কমিশন ও প্রশাসনিক আধিকারিকেরা।
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য— স্কুল স্তর থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যৌন হেনস্থা, মানব পাচার এবং বুলিং-এর বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা। এমনকী, পড়ুয়াদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
শিশুদের মুখে সাহসের ভাষা দিচ্ছে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’
স্কুলের প্রধান শিক্ষক অলোক নায়েক বলেন, “অনেক সময় বাচ্চারা যৌন হেনস্থা বা বুলিং-এর শিকার হলেও চুপ করে থাকে। এই প্রকল্প সেই চুপ থাকার সংস্কৃতিকে ভাঙতে সাহায্য করছে। এই ধরনের সচেতনতামূলক সেমিনার শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও সাহস জোগাচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোনারপুর থানার মহিলা আধিকারিক তনুশ্রী, জেলা চাইল্ড কাউন্সেলর অর্পিতা রায়চৌধুরী, সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুমন হালদার সহ আরও অনেকে। তাঁরা প্রত্যেকেই ছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং ভিডিও ও পোস্টার প্রদর্শনের মাধ্যমে বোঝান— কীভাবে আইনত সাহায্য নেওয়া যায় যৌন হেনস্থার শিকার হলে।
১০৯৮ ও ১০০: পড়ুয়াদের পাশে প্রশাসন ও পুলিশ

২০১৬ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ প্রকল্পের সূচনা করেছিল মানব পাচার রোধে। প্রথম বছরেই এই প্রকল্প বিশাল সাফল্য পায়। ছাত্রীরা জানতে পারে, শুধুমাত্র পরিবার নয়, স্কুল ও পুলিশও তাঁদের পাশে আছে। সমস্যায় পড়লে ১০৯৮ (চাইল্ডলাইন), ১০০ অথবা নিকটবর্তী থানায় যোগাযোগ করা যায়।
যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ও অধিকার চেনানোই লক্ষ্য

এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য, কিশোরীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং তাদের জানানো যে, তারা যদি কখনও হেনস্থার শিকার হয়, তবে তারা একা নয়। রাজ্য পুলিশ স্কুলে গিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে বিষয়গুলি বোঝায়। পঠনপাঠনের পাশাপাশি এই ধরনের প্রকল্প পড়ুয়াদের মানসিক দিক থেকেও শক্তিশালী করে তোলে।

সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে কমেছে মানব পাচার
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা সহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে স্বয়ংসিদ্ধার প্রচার বৃদ্ধি পাওয়ায় মানব পাচার আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। স্কুলস্তরে সচেতনতা গড়ে তোলার ফলে ছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা ও সাহস দুই-ই বেড়েছে।

সোনারপুরের স্কুলে আয়োজিত স্বয়ংসিদ্ধা প্রকল্পের এই প্রচার অনুষ্ঠান প্রমাণ করে, শুধুমাত্র আইন বলেই নয়, সচেতনতা এবং শিক্ষা দিয়েই সমাজ বদলানো সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ছাত্রীদের মুখে সাহস এবং হাতে অধিকার তুলে দেওয়ার যে পদক্ষেপ, তা নিঃসন্দেহে আগামী দিনের জন্য এক আশার আলো।