রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
ভোটার তালিকা সংশোধনের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে সরগরম সুপ্রিম কোর্ট। বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এনইসি (Nirvachan Ayog) বা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে অ্যাসোসিয়েশন অফ ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR)।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে আজ মামলার শুনানি হয়। সেখানে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়— “আপনারা ভোটার ও আধার কার্ড বিবেচনা না করে ব্ল্যাঙ্কেট বাতিল করতে পারেন না। আধার যুক্ত করুন, সেটা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।”
❗ কী অভিযোগ উঠেছে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে?
1. এক মাসের মধ্যে ৩ লক্ষ ভোটারের ফর্ম আপলোডের অবাস্তব নির্দেশ:
এক জন মাত্র রেজিস্ট্রেশন অফিসারের উপর এত বিশাল দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ না করেই, তাদের অনুমতি ছাড়াই ফর্ম আপলোড করে দেওয়া হয়েছে।
2. ভোটাররা অবাক! তাঁরা আবেদনই করেননি:
মোবাইলে মেসেজ আসছে, তাঁদের ফর্ম জমা হয়েছে। অথচ, তাঁরা কিছুই জানেন না। কোনও ফর্মে সই করেননি, কেউ দেখা করতেও আসেনি।
3. মৃত ভোটারদের নামেও নথি আপলোড:
ADR দাবি করেছে, বহু মৃত ভোটারের নামে ফর্ম এবং সই সহ ফর্ম আপলোড করা হয়েছে। এ এক ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র।
⚖️ বিচারপতিরা কী বললেন?
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন—
“আপনারা যে ১১টি নথি দিয়েছেন, তার প্রতিটিতেই নকল হবার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু সেটা মানে এই নয় যে, সকল নথিই বাতিল করতে হবে। বরং আধার যুক্ত করুন।”
শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনের যুক্তি খারিজ করে জানায়, ভোটারদের অনুমোদন ছাড়া ফর্ম আপলোড একেবারে অবৈধ।
📌 নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কী চায় এডিআর?
ভোটারদের অনুমতি ছাড়া ফর্ম আপলোডের জবাবদিহি
আধার, রেশন কার্ডের মতো বৈধ নথি কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না, তার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা
নাগরিকত্ব যাচাইয়ে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা
📢 সুপ্রিম কোর্টের বার্তা কী?
এখনই ড্রাফট ভোটার লিস্ট প্রকাশে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি।
আগামীকাল শুনানির পর জানা যাবে মামলার পরবর্তী দিন।
আরপিএফ, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জবাবদিহির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
🔍 কেন এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?
1. বিহার এবং ভবিষ্যতের সমস্ত রাজ্যে SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা পুনর্গঠন পরিকল্পিত।
2. জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এই তথ্যভিত্তিক ফর্ম ফিলআপ পদ্ধতির জালিয়াতি।
3. যদি আধার বা ভেরিফায়েবল আইডি সংযুক্ত না করা হয়, তাহলে বহুগুণে বাড়বে নকল ভোটার এবং ভোট জালিয়াতির আশঙ্কা।
এই মুহূর্তে “Supreme Court SIR Case Aadhaar Voter Fraud” ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু। যদি এই মামলায় কমিশনের গাফিলতি প্রমাণ হয়, তাহলে দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংস্কারের নামে এক বিপজ্জনক প্রশাসনিক জালিয়াতি সামনে আসবে।

সর্বোচ্চ আদালতের তৎপরতায় নাগরিকদের অধিকার রক্ষা পাবে কি না, সে দিকেই তাকিয়ে দেশবাসী। আপডেটের জন্য চোখ রাখুন Kolkata Saradin News Portal-এ।