সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের দাগি অযোগ্যদের মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, এতদিন প্রকাশ্যে না আসায় তাদের রীতিমত ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। এসএসসি নিয়োগ কেলেঙ্কারি মামলায় ফের বড় ধাক্কা খেলেন বিতর্কিত প্রার্থীরা। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রকাশিত ‘দাগি তালিকা’ বহাল থাকবে এবং অযোগ্য প্রার্থীরা পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের দাগি অযোগ্যদের মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, এতদিন প্রকাশ্যে না আসায় তাদের রীতিমত ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্ট এসএসসির প্রকাশিত চিহ্নিত অযোগ্যদের তালিকায় কোনও হস্তক্ষেপ করল না। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিল এসএসসি-র চিহ্নিত অযোগ্যরা আর পরীক্ষায় বসতে পারবে না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসএসসি চিহ্নিত অযোগ্য বা চিহ্নিত দাগিদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে ১৮০৬ জনের নাম রয়েছে। এই তালিকা প্রকাশের পরই দাগিরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। কমিশনের প্রকাশিত তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন। পাশাপাশি নতুন করে পরীক্ষায় বসার আবেদনও জানিয়েছেন চিহ্নিত দাগিরা। মামলাকারীদের বক্তব্য, ‘আমরা যে দাগি তা কে ঠিক করে দিল? কিসের ভিত্তিতে আমাদের দাগি বলা হচ্ছে?’
মামলা উঠতেই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তা খারিজ করে দেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘এত দিন কোথায় ছিলেন? যেই তালিকা প্রকাস হল আদালতে চলে এলেন?’ এখানেই শেষ নয়, বিচারপতি আরও বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে আর নয়! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তালিকা প্রকাশের পর কীভাবে বলতে পারেন দাগি অযোগ্য নন?’
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দাগিদের তালিকা প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। সেই তালিকায় রয়েছে ১৮০৬ জনের নাম। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর এসএসসি-র যে নিয়োগ পরীক্ষা হবে সেখানে এই চিহ্নিত অযোগ্য পরীক্ষার্থীরা বসতে পারবে না।
মঙ্গলবার হাইকোর্টে চিহ্নিত দাগিদের মামলাটি উঠেছিল শুনানির জন্য। সেখানেই কলকাতা হাইকোর্ট জানতে চেয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তারা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যাচ্ছেন কিনা? তারা যদি স্কুলে না গিয়ে থাকেন তাহলে আগে কেন আদালতে আসেননি? বিচারপতি বলেন, ‘গত ১৭ এপ্রিস সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে আপনা স্কুলে যেতে পারেননি। এখন কেন আবেদন করছেন? আগে আসেননি কেন?’

মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ী আদালতে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, প্যানেলের মেয়াদ শেষ হলেও প্রায় ১৮৩ জন এখনও চাকরিতে বহাল আছেন। তাঁরা অযোগ্য হয়েও কেন পরীক্ষায় বসছেন, আর কেন এসএসসি তাঁদের ‘দাগি’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি- এই প্রশ্নই তুলেছেন মামলাকারীরা। তবে এই যুক্তিও আদালতে টেকেনি।