সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
এসআইআর-এর কাজে বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কর্মীতে অনীহা কেন, প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। সিইও দফতরে কর্মী থাকা সত্ত্বেও কেন বাইরে থেকে নিয়োগ করা হল? তাঁর দাবি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যে দুই ‘উদ্বেগজনক ও জরুরি’ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তিনি চিঠি পাঠালেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। চিঠিতে তিনি অভিযোগ তুলেছেন, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, ‘দুটি উদ্বেগজনক ও জরুরি বিষয় আমার নজরে এসেছে। যা নিয়ে অবিলম্বে কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, জেলা স্তরে যেখানে কাজের জন্য লোক রয়েছে, সেখানে কেন এত বিপুল সংখ্যক কর্মীকে বহিরাগত সংস্থার মাধ্যমে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ল? তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, এর মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক দল নিজেদের ‘স্বার্থসিদ্ধি’ করতে চাইছে। বিজ্ঞপ্তি জারি করার সময় এবং পদ্ধতি নিয়ে তাঁর গভীর সন্দেহ রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ডেটা এন্ট্রি কর্মী নিয়োগে সিইও–র প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম আপত্তি উঠেছে এক ‘সন্দেহজনক’ রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল নিয়ে। তিনি লিখেছেন, সিইও পশ্চিমবঙ্গ জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা আর চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর বা বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কর্মীদের এস আই আর বা নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার না করেন। একই সঙ্গে সিইও–র দপ্তর থেকে ১,০০০ ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ও ৫০ সফটওয়্যার ডেভেলপার নিয়োগের জন্য কেন্দ্রীভূত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, মেয়াদ এক বছর।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন:
‘যেখানে জেলাগুলিতে আগে থেকেই প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মী রয়েছেন, সেখানে হঠাৎ এই নতুন নিয়োগের প্রয়োজন কেন? জেলাগুলি স্বাধীনভাবে কর্মী নিয়োগ করতে পারে। তাহলে সিইও-র দপ্তর কেন তাদের দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে? এই পদক্ষেপ কি কোনও রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষার্থে নেওয়া হচ্ছে?’ তিনি চিঠিতে লেখেন, এই দরপত্রের সময় ও পদ্ধতি, দুটিই সন্দেহের উদ্রেক করছে।

বেসরকারি আবাসনে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা
দ্বিতীয় বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন নাকি বেসরকারি আবাসিক কমপ্লেক্সে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে, এবং এই বিষয়ে ডিইও–দের মতামত চাওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র সবসময় সরকারি বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে তৈরি করা হয়। এটি নিরপেক্ষতা রক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি।’ ‘প্রাইভেট কমপ্লেক্সে ভোটকেন্দ্র তৈরি করলে বৈষম্য তৈরি হবে, একদিকে সচ্ছল বাসিন্দারা, অন্য দিকে সাধারণ মানুষ। এটি কি কোনও রাজনৈতিক দলের স্বার্থে করা হচ্ছে?’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা চিঠিতে আরও সতর্ক করেন, ‘এই ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা, সমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার উপর গভীর প্রভাব ফেলবে।’ চিঠির শেষে তিনি লিখেছেন, ‘আমি আপনাকে অনুরোধ করছি, বিষয়গুলি সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নিষ্পক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা করুন। কমিশনের মর্যাদা যেন কোনওভাবেই নষ্ট না হয়।’