সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘বাংলার মাটি একতার মাটি। এই মাটি রবীন্দ্রনাথের মাটি, নজরুলের মাটি, রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের মাটি— এই মাটি কখনও মাথা নত করেনি বিভেদের কাছে, আগামীদিনেও করবে না।’ এভাবেই বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনের সংহতি দিবস উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে যখন বাবরি মসজিদ ধ্বংসের অভিশপ্ত দিনে তৃণমূল বিগত বছর গুলির মত সংহতি দিবস পালন করছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে, সেই দিনে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য শিলান্যাস অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বাংলার সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এই আবহে এবং সংবিধান প্রণেতা বা বাসাহেব আম্বেদকরের প্রয়াণ দিবসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষের কাছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘একতাই শক্তি, শুরুতেই আমি সকলকে ‘সংহতি দিবস’/ ‘সম্প্রীতি দিবস’ উপলক্ষে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। বাংলার মাটি একতার মাটি। এই মাটি রবীন্দ্রনাথের মাটি, নজরুলের মাটি, রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের মাটি— এই মাটি কখনও মাথা নত করেনি বিভেদের কাছে, আগামিদিনেও করবে না। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন, বৌদ্ধ — বাংলায় সকলে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে জানি। আনন্দ আমরা ভাগ করে নিই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার। যারা সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালিয়ে দেশকে ধ্বংস করার খেলায় মেতেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে। সকলে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন।’
প্রত্যেক বছর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংহতি দিবস পালন করে থাকে তৃণমূল। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর। অযোধ্যায় ধ্বংস করা হয়েছিল বাবরি মসজিদ। সেই থেকেই ৬ ডিসেম্বর সংহতি দিবস পালন করে তৃণমূল। এবারও যথারীতি সভা হয়েছে ধর্মতলায় মেয়ো রোডে। এই সভার আয়োজনের দায়িত্ব ছিল তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠন। কলকাতার পাশাপাশি দুই ২৪ পরগনা ও হাওড়ার ছাত্র-যুবদেরই মূলত এই সমাবেশ যোগ দিয়েছিলেন।
সভা মঞ্চ থেকে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘সব সম্প্রদায়, সব ধর্ম, সব শ্রেণী সকলেই একসঙ্গে থাকবে। সংবিধানের শপথ নিয়ে যারা সরকারে থাকে, তাঁরা সংহতি ও সম্প্রীতিকে নষ্ট করছে। এই মঞ্চ থেকে তাঁদের ধিক্কার জানাচ্ছি। এই সভা মঞ্চ থেকে উঠছে এসআইআরের কথা। কেন এটা হচ্ছে? আসন্ন নির্বাচনের মুখোমুখি হতে চলেছে ৫টি রাজ্য। নির্বাচনের আগে একটি রাজ্যকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ভারতের সংবিধান ঐক্যের কথা বলে। মৌলিক অধিকারের কথা বলে। রাইট টু মুভমেন্ট আটকানোর চেষ্টা কড়া হলে চুপ করে বসে থাকবে না বাংলা।’
সংহতি দিবসের মঞ্চ থেকে চাকরি খাওয়া নিয়ে সিপিএম-বিজেপিকে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম না করে এদিন কল্যাণ জানান, ‘একদিন যে লোকটা ভগবান হয়ে উঠেছিল, রিকশা, অটোর পিছনে ‘তুমি ভগবান’ লিখে যার পোস্টার পড়ত, তিনিই এখন শয়তান হয়ে গিয়েছেন।’ সিপিএম-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘সিপিএম-এর লোকেরা চাকরি খায়। আমাদের চ্যালেঞ্জটা এই জায়গায়। বাংলায় কয়েকটা উকিলের জন্য কলকাতার প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়িয়ে থাকবে কিনা, সেটাই আমরা জানতে চাই। এই সিপিএমের লোকই চাকরি খেতে এসেছিল, আটকে দিয়েছি। অভিষেক হল আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, আর দিদি ছিল আছে থাকবে।’