সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘আমি বেঁচে থাকতে বাংলায় কোন ডিটেনশন সেন্টার তৈরি হবে না।’ এভাবেই কোচবিহারের সভা থেকে কোচবিহারের রাজবংশী এবং নমঃশূদ্রদের আশ্বস্ত করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কোচবিহারের রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক সভা করে বিকেলে পৌঁছে গিয়েছেন মদনমোহন মন্দিরে। সেখানে বিগ্রহের সামনে আরতি করেন। অঞ্জলিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার রাসমেলার মাঠে বৈঠক রয়েছে। দুদিনের সফরে কোচবিহারে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই সফরে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। তারমধ্যেও মদনমোহন মন্দিরে আসতে ভোলেননি তিনি। পুজারিদের কাছ থেকে গঙ্গা জল দিয়ে হাত ধুয়ে মন্ত্রচ্চোরণের মাধ্যমে পুজো দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘণ্টা বাজিয়ে আরতিও করেছেন বলে জানা গিয়েছে। আরতির শেষে সকলে প্রদীপের আশিস দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিন প্রশাসনিক সভা থেকে এসআইআর নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কোচবিহার যেহেতু ভারত এবং বাংলাদেশের একেবারে সেমন্ত ভর্তি জেলা তাই এই এলাকায় রাজ্য পুলিশকে আরো প্রো-অ্যাকটিভ হওয়ার নির্দেশ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি ? পাকিস্তানের ভাষা উর্দু। অনেকেই উর্দুতে কথা বলেন। তাহলে? যে গর্ভবতী মাকে নিয়ে এলাম তার পরিবারের অনেকেই বাংলাদেশে আছে। আর রাজ্যের পুলিশকে বলব এত ভীতু হলে চলবে না। কোচবিহার জেলা বর্ডার জেলা। আইনশৃঙ্খলা ভালোভাবে দেখে রাখতে হবে। বর্ডার এলাকায় অযথা কোনও হস্তক্ষেপ মানা যাবে না। রাজ্যের যারা অফিসার আছেন তাঁদের বলব, ভীতু হলে চলবে না। মারপিট করতে বলছি না, খুন খারাপি করতে বলছি না! তবে প্রো-অ্যাক্টিভ হন। যাঁরা বেশি সমালোচনা করেন, তাঁরাই এটা খেয়ে যায়! আর দোষ হয় অন্য লোকের। সব পাখি মাছ খায়, দোষ হয় মাছরাঙার!’
গত কয়েক মাসে বিজেপি শাসিত অসম থেকে যেভাবে কোচবিহার সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির বেশ কিছু বাসিন্দার নামে এনআরসি নোটিশ পাঠানো হয়েছে তার বিরুদ্ধে এদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্য প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক করে মমতা হুঁশিয়ারি দেন, ‘অনেক রাজবংশী লোককে অসম থেকে এনআরসির নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। যার প্রতিবাদও জানানো হয়েছে। অসম সরকারের কোনও অধিকার নেই বাংলার লোককে চিঠি পাঠানোর। পুলিশকেও আমারা বলা থাকল, অন্য রাজ্য থেকে এসে আমার রাজ্যের লোককে যেন গ্রেফতার করে নিয়ে যেতে না পারে। এটা দেখার দায়িত্ব আপনাদের।’ এমনকী কোনও ক্রিমিনালকে ধরতে আসলেও পুলিশকে রাজ্যকে জানানোর কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ‘কোনও ক্রিমিনালকে ধরতে আসলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলুন। আমারা ক্রিমিনালকে নিশ্চয় অ্যালাও করব না। নমঃশূদ্রদের বলছি বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প আমি থাকতে করতে দেব না। আমরা চাই মানুষ নিজের সম্মান-মর্যাদা নিয়ে বাঁচুক।’
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এসআইআর নিয়ে এত তাড়াহুড়ো কেন? ২ মাসের মধ্যে কী কারণে কাজ সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে? কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই এসআইআর করা হচ্ছে। বিএলও, বিডিওদের ওপরে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হচ্ছে। এসআইআর আতঙ্কে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাজের চাপে কয়েকজন বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন অনেকেই। নির্বাচন আসে, যায়, সরকার থেকে যায়। ভোট কেটে ডবল ইঞ্জিন সরকারকে জেতানো লক্ষ্য। কোনও কমিশন যদি একপক্ষ হয়ে যায়, তাহলে কী করে চলবে?

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি অনেক রাজবংশী লোককে নোটিস পাঠানো হয়েছে অসম থেকে। ডিটেনশন ক্যাম্পে ১২ লক্ষ হিন্দুর নাম বাদ, ৭ লক্ষ মুসলমান নামের ভোটার। এখানে বলছে সব বাংলাদেশি ভোটার। আগে ভারত,পাকিস্তান, বাংলাদেশ আগে এক ছিল। মুজিবের সাথে চুক্তি ছিল। ১৯৭১ সালে সেই চুক্তি অনুযায়ী তারা নাগরিক। বিএলওদের সবাই সাহায্য করবেন। অনেক সময় সার্ভার ঠিক কাজ করে না। একজন একটা জায়গাতেই ভোট দিতে পারে। আর যাঁরা বিহারে ভোট দেয়নি তাঁরা তো এখানে ভোট দিতেই পারেন। তাঁদের নাম কেন বাদ যাবে? যাঁরা ওইখানে ভোট দিয়েছেন আলাদা কথা। তাঁদের নাম বাদ যাক। কিন্তু একজন তো একটা ভোট দিতেই পারবেন। যাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক, তাঁদের পরিবারের ডিটেল নিয়ে কাজ করুন। আর হিয়ারিংয়ে যাবেন। সরকারের তরফে মে আই হেল্প ইউ ক্যাম্প হবে।’