সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘কলকাতা ও শিলিগুড়িতে তৈরি হবে ‘ট্রেড এক্সপোর্ট ফেসিলিটি সেন্টার’। তাঁত থেকে হস্তশিল্প, টেরাকোটা, আন্তর্জাতিক বাজারে যা যা বিক্রি হয়, সেগুলি ওই এক্সপোর্ট ফেসিলিটি সেন্টারের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।’ নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ব্যবসায়ী সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই সঙ্গে বাংলার ব্যবসাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঘোষণা করেন, বিজনেস টু বিজনেস হাব তৈরি হবে। জিআই ট্যাগ পাওয়া সব প্রোডাক্ট থাকবে সেখানে। পাশাপাশি প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং -এর উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ‘ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ স্থাপন করব। মাসে মাসে বৈঠক বসবে ও নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মেটাবেন ব্যবসায়ীরা। সরকারি আধিকারিকরা সেখানে থাকবে। সিঙ্গল উইন্ডো ইন্টারফেস তৈরি হবে, যেখানে ব্যবসা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে গেলে দ্রুত সমাধান করা হবে। সব জেলার চেম্বারের সদস্যরা থাকবেন। জেলাশাসকও থাকবে। পুরুলিয়ায় ব্যবসা হলে, কলকাতা আসতে হবে না। সেখানে বসেই সমস্যা সমাধান করা যাবে।’
বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কাজের পরেও ব্যবসায়ীদের টাকা পেতে যে সমস্ত সমস্যা হয়, তা নিরসনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ‘ট্রেডস পোর্টাল’ চালু করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, সরকারি কাজের পেমেন্ট পেতে অনেক সময় দেরী হয়। ফলে বিনিয়োগ করতে অসুবিধা হয় ব্যবসায়ীদের। এই পোর্টালে মিলবে সমাধান। কাজ শেষ করার তথ্য পোর্টালে আপলোড করলে যে ৭২টি ব্যাঙ্ক যুক্ত আছে, সেগুলি ব্যবসায়ীদের ঠিক সময়ে টাকা দিয়ে দেবে। তাদের আপনাদের কাজ বন্ধ হবে না।’

বুধবার, এই অনুষ্ঠানে ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী শশী পাঁজা, সুজিত বসু সহ উপস্থিত ছিলেন রাতের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ, শিল্প বাণিজ্য দপ্তরের সচিব সহ রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। সেখানে দাঁড়িয়ে বাংলার শিল্প নিয়ে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। টার্গেট করে পশ্চিমবঙ্গকে ছোটো করার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন তিনি। আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাণিজ্যর জন্য উপযুক্ত। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে এগিয়ে বাংলা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে ছ’টি ইকোনমিক করিডর তৈরি হচ্ছে। সেই করিডরগুলি চালু হলে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলেই তাঁর দাবি। মুখ্যমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের এমএসএমই সেক্টরে রয়েছে ৯৩ লক্ষ ইউনিট, যেখানে কাজ করেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরও ১৫ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী। এআই আসছে, প্রযুক্তিও বাড়ছে, তবে তার জেরে যাতে মানুষের রুজি-রোজগার না যায়, সেই দিকেই বাড়তি নজর দেবে রাজ্য। বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কনফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘এআই অপারেশন করছে, সেটা মানছি। কিন্তু হিউম্যান টাচও দরকার। এ আই করতে গিয়ে যেন এমপ্রয়মেন্ট না চলে যায়, এমন কিছু করব না, যাতে মানুষ বে রোজগার না হয়ে যায়। তাদের দিকটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। পেটের ক্ষুধা বড় ক্ষুধা।’
এমনকি গত সপ্তাহের মেসিকে নিয়ে যুবভারতী স্টেডিয়ামে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তার প্রেক্ষিতে ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে পদত্যাগ করে হয়েছে সরাসরি সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ না করেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কেউ যদি দুষ্টুমি করে তাহলে দুষ্টুমিষ্টি মেডিসিন দিয়ে আমি প্রবলেমটার সমাধান করে দিই।’
অন্যদিকে, বুধবার দুপুরে নিজের কালীঘাটের বাসভবন থেকে বেরিয়ে আচমকাই তিনি নেমে পড়েন এসএসকেএম হাসপাতালের সামনে। আচমকাই হাসপাতালের সামনে ‘মা ক্যান্টিন’-এর কাছে গিয়ে দাঁড়ান মমতা। মুখ্যমন্ত্রীকে ওই ক্যান্টিনে উপস্থিত হতে দেখে তৎপর হয়ে পড়ে প্রশাসন। ‘মা ক্যান্টিন’-এ দাঁড়িয়ে থাকা আমজনতাও খানিকটা হকচকিয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কথা শুরু করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্যান্টিনের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে চান, আজ কী খাবার দেওয়া হচ্ছে। উত্তরে ক্যান্টিনের কর্মীরা জানান, প্রতিদিনের মতো ভাত, ডাল, তরকারির সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে একটি করে সিদ্ধ ডিম। ক্যান্টিনের কর্মীরাই মমতাকে অনুরোধ করেন কয়েক জনকে ‘মা ক্যান্টিন’-এর খাবার হাতে তুলে দিতে। তাঁদের অনুরোধ মেনেই মুখ্যমন্ত্রী কয়েক জনের হাতে খাবারের থালা তুলে দেন। পাশাপাশি, খাবারের মান প্রসঙ্গেও জানতে চান। কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলেই মুখ্যমন্ত্রী নিজের গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়ে যান।