সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সেই কালো দিনটির রেশ কাটছে না। স্টেডিয়ামে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তর রিষড়ার বাঙুর পার্কের বিলাসবহুল বাড়ি ‘চারু সুধা’য় শুক্রবার সকালে তল্লাশি চালাল বিধাননগর পুলিশের একটি বিশেষ দল। মহিলা পুলিশকর্মী-সহ ৫ জন আধিকারিক প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে ওই তিনতলা বাড়ির প্রতিটি কোণ খতিয়ে দেখেন। বিলাসবহুল বাড়িতে কী খুঁজছে পুলিশ? গত ১৩ ডিসেম্বর শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করার পর আজ তাঁর বাড়িতে এই হানা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তল্লাশির সময় বাড়িতে শতদ্রু বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য ছিলেন না। তদন্তকারীরা দীর্ঘক্ষণ বাড়ির পরিচারিকার সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ, মেসির এই বিশাল সফরের পিছনে বিপুল পরিমাণ ‘কালো টাকা’ ব্যবহৃত হয়েছে। শতদ্রুর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা এই সফরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই বিশাল পরিমাণ টাকা কীভাবে সংগৃহীত হলো এবং মেসির কাছে কীভাবে পৌঁছল- সেই উৎস খুঁজতেই এখন মরিয়া পুলিশ। যুবভারতী বিশৃঙ্খলা কাণ্ডে ইতিমধ্যেই বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। উল্লেখ্য, মেসির সেই ২২ মিনিটের সফরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং স্টেডিয়ামে ভাঙচুরের জেরে বিতর্কের মুখে পড়ে ইতিমধ্যেই ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস।

অন্যদিকে কলকাতায় মেসির ইভেন্ট কে কেন্দ্র করে কয়েকশো কোটি টাকার কেলেঙ্কারি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা হাইকোর্টে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে দিয়ে তদন্তের দাবিতে দায়ের করেছেন মামলা। তারপরেই ইডি গোটা ঘটনার তদন্তের সরাসরি নামার আগে গোটা ঘটনার খোঁজ নিতে শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইভেন্ট আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত শতদ্র দত্তর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ওই বিপুল অঙ্কের টাকা কোথা থেকে এসেছে, কী ভাবে ওই অর্থ তোলা হয়েছে এবং কোন কোন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই আর্থিক লেনদেনের মধ্যে বেনিয়ম থাকতে পারে। সেই কারণেই পুরো আর্থিক নথি, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট লেনদেনের উৎস যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ইভেন্ট আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

ইডি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বর্তমানে প্রাথমিক অনুসন্ধান চলছে। এই পর্যায়ের তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ মিললে পরবর্তী ধাপে ইসিআইআর দায়ের করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তদন্ত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক মামলায় রূপ নেবে।