সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
দীর্ঘদিনের জল্পনা, টানাপড়েন এবং আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নতুন ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP) হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আইপিএস অফিসার পীযূষ পান্ডে।
বর্তমান ডিজি রাজীব কুমারের অবসর এখনও হাতে কয়েক দিন বাকি থাকতেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। নবান্নের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আপাতত রাজ্য পুলিশের ডিজি ও আইজি-র ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন পীযূষ পান্ডে।
১৯৯৩ ব্যাচের এই সিনিয়র আইপিএস অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাজ্য পুলিশের শীর্ষপদে অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। বর্তমান ডিজি-আইজি রাজীব কুমার (১৯৮৯ ব্যাচ) আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এ অবসর নিচ্ছেন। তাঁর অবসর নেওয়ার পর, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকবেন পীযূষ পান্ডে— এমনটাই স্পষ্ট করা হয়েছে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে।

প্রসঙ্গত, রাজ্য পুলিশের ডিজি পদ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে কোনও স্থায়ী ডিজি নেই। রাজীব কুমার এতদিন ‘ভারপ্রাপ্ত’ ডিজি হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু তাঁর অবসর আসন্ন হওয়ায় নতুন ডিজি নিয়োগ নিয়ে চাপ বাড়ছিল নবান্নের উপর। সেই কারণেই স্থায়ী ডিজি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে রাজ্য সরকার এবং সম্ভাব্য নামের তালিকা পাঠানো হয় কেন্দ্রের কাছে।
ডিজি নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। রাজ্য সরকার প্রথমে সিনিয়র আইপিএস আধিকারিকদের একটি প্যানেল ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC)-এর কাছে পাঠায়। সেখান থেকে ইউপিএসসি তিনজনের নাম বেছে রাজ্যের কাছে পাঠায়। এরপর ওই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে স্থায়ী ডিজি হিসেবে নিয়োগ করে রাজ্য সরকার। এই তালিকায় ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমারের পাশাপাশি ছিলেন আইপিএস রাজেশ (যিনি মামলাকারী), রণবীর কুমার, দেবাশিস রায়, অনুজ শর্মা, জগমোহন, এন রমেশ বাবু ও সিদ্ধিনাথ গুপ্ত— মোট আটজন সিনিয়র আধিকারিক।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজ্য পুলিশের শেষ স্থায়ী ডিজি ছিলেন মনোজ মালবীয়। তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অবসর নেন। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁর অবসরের সময় যে আটজন সিনিয়র আইপিএস অফিসার কর্মরত ছিলেন, তাঁদের নামই প্রস্তাবিত তালিকায় পাঠানো বাধ্যতামূলক ছিল। সেই কারণেই রাজীব কুমারের নাম ওই তালিকায় রাখা হয়েছিল। তবে সেই তালিকায় পীযূষ পান্ডের নাম ছিল না, যা নিয়ে তখন থেকেই প্রশ্ন উঠছিল।
এর আগেও স্থায়ী ডিজি নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকার একটি প্যানেল পাঠিয়েছিল। কিন্তু ইউপিএসসি জানায়, বিধি অনুযায়ী পূর্ববর্তী স্থায়ী ডিজির অবসরের অন্তত তিন মাস আগে তালিকা পাঠানো প্রয়োজন ছিল। মনোজ মালবীয়ের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা ছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর। কিন্তু রাজ্য সরকার তালিকা পাঠায় ২৭ ডিসেম্বর, ফলে আইনি কারণ দেখিয়ে ইউপিএসসি সেই প্যানেল ফেরত পাঠায়।

এই সব জটিলতার মাঝেই পীযূষ পান্ডেকে ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হল। প্রশাসনিক মহলের মতে, অভিজ্ঞ ও তুলনামূলকভাবে বিতর্কমুক্ত এই আইপিএস অফিসারের হাত ধরেই আপাতত রাজ্য পুলিশের শীর্ষস্তরের কাজকর্ম চলবে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য পুলিশের নেতৃত্বে এই বদল যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।