শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘সিপিএম সবসময় সবকিছুতে বিভ্রান্ত থাকে। কি হওয়া উচিৎ, কি উচিৎ কংগ্রেসের সঙ্গে যাওয়া উচিৎ কিনা সবটা নিয়ে বিভ্রান্ত। কেরালায় কংগ্রেসের সঙ্গে কী সম্পর্ক, বাংলায় কী সম্পর্ক সবটা নিয়ে বিভ্রান্তি কাজ করে। জোটে যাওয়ার পরে দেখা যায় দুজনের শূন্য।’ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও হুমায়ুন কবীরের মধ্যে গোপন হোটেল বৈঠকের প্রেক্ষিতে এভাবে বিষ্ফোরক অভিযোগ করলেন বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
সিপিএম ও হুমায়নের সাক্ষাৎ, তৃণমূল ও বিজেপির বিরোধ করে তৃতীয় জোট কি সম্ভব? নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে এসে সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে জোরালো প্রতিক্রিয়া দিয়ে দিলীপের কটাক্ষ, ‘জোট হবে কি না সেটাই বিষয়।’
এর সঙ্গে নয়া সম্ভাবনা উষ্কে দিয়ে তিনি বলেন, ‘জোট হবে কিনা সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু সিপিএম হয়তো জোট ঘেঁটে দিতে চাইছে। কোনো জোট তৈরি হোক, সেটা তৃণমূল চায় না। তাই তাঁদের কাজে লাগানো হচ্ছে। তৃতীয় জোট হওয়ার কথা থাকলেও তা ভেস্তে দিতে চায় সিপিএম।’
২৬-শের ভোটের আগে রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক ‘জোটের’ ইঙ্গিত ঘিরে এই মুহূর্তে চর্চা তুঙ্গে। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ডেড জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বৈঠকই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। আর সেই আলোচনা এবার আরও উস্কে দিলেন দিলীপ ঘোষ।
এর পাশাপাশি, বাংলার এসআইআর প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। কমিশনের কঠোর নির্দেশ স্বত্ত্বেও আধিকারিকদের বদলি প্রসঙ্গে দিলীপের অভিযোগ, ‘রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা জটিলতা তৈরি করছে সেটাও কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে৷ নিরপেক্ষভাবে এসআইআর শেষ হবে।’

এদিকে ভোট আবহে ফের রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ‘নির্বাচনে কী এবার শিল্পই পাখির চোখ?’ উত্তরে দিলীপ বলেন, ‘বাংলার শিল্পপতিরা চলে যাচ্ছেন বাংলা ছেড়ে অন্য রাজ্যে। কেন এখানে কিছু হচ্ছে না?’ একইসঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানান, অমিত শাহ এই সফরে মূলত কর্মী সভা করতেই আসছেন রাজ্যে। দলীয় নির্বাচনী সভা শুরু হবে মার্চ মাস থেকে।
বিএলও-দের কাজে নির্বাচন কমিশনের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে দিলীপের অভিযোগ, ‘বিএলও-দের ইচ্ছে করে নাম ভুল করতে বলেছে তৃণমূল। যাতে জটিলতা তৈরি হয়। যার সব দোষ আসছে কমিশনের দিকে। কিন্তু কোনওমতেই এসআইআর আটকানো যাবে না৷’