শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
রাজ্য বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। আগামী সপ্তাহেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েকদিন আগে শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা মামলায় বিচারপতি অমৃতা সিনহা বিধানসভার সচিব এবং অধ্যক্ষকে নির্দেশ পেয়েছিলেন সংসদীয় গণতন্ত্রের শাসক দল এবং বিরোধী দল সকলের জন্য নিয়ম এবং আইন একই রকমের হওয়া উচিত।
বিরোধী দলনেতা যেভাবে নিজেদের নিরাপত্তা বিধানসভার ভেতরে নিয়ে যাওয়ার আবরণ করেও অনুমতি পাননি সেখানে যেন শাসকদলের বিধায়ক বা মন্ত্রীদের দেহরক্ষী নিয়ে বিধানসভার ভেতরে ঢুকতে না দেওয়া হয়। কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশের পরেও রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় গত সপ্তাহে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন চলাকালীন বিগ কমতে জারি করে জানিয়ে দেন এছাড়া আর কেউ অর্থাৎ শাসক বা বিরোধী কোন বিধায়ক বা মন্ত্রী নিজেদের দেহরক্ষী নিয়ে বিধানসভার ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না।
সেই শুনানির মাত্র কয়েকদিনের মাথায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ভয়ঙ্কর অভিযোগ এনে ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ বিরোধী দলনোত শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দুর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীদের নিয়েই প্রবেশ করেন। অথচ আদালতের নির্দেশ অনুসারে সমস্ত বিধায়ককে সমান চোখে দেখতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অন্য বিধায়কদের নিরাপত্তারক্ষীরা বাইরে থাকলেও কেন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা বিধানসভায় প্রবেশের অনুমতি পান? এই প্রশ্ন তুলে বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ বিরোধী দলনেতা। এই মামলায় আবেদনকারীর আইনজীবী দাবি করেন বিধানসভার সিসিটিভি সংরক্ষণের নির্দেশ দিক আদালত।
অন্যদিকে, ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপমানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদে প্রাক্তন সেনাকর্মীরা ধর্মতলায় যে প্রতিবাদ সভা আয়োজন করেছেন সেখান থেকে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সেনা আপনাকে দেখে পালায়নি, আপনি সেনাকে দেখে মেয়ো রোড থেকে পালিয়ে ডোরিনা ক্রসিং গেছেন। ভারতীয় সেনা কাউকে ভয় পায় না। তাঁদের চিন ভয় পায়, পাকিস্তান পা ধরে। সুতরাং, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে তাঁরা পালিয়ে যাবেন, এটা কখনই হতে পারে না। দেশের মধ্যে যেমন অনেক টুকরে-টুকরে গ্যাং রয়েছে, মমতার আচরণও ঠিক তেমন।
তবে প্রাক্তন সেনা কর্মীদের এই প্রতিবাদ মঞ্চে কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকতে পারবে না বলে কলকাতা হাইকোর্ট অনুমতি দেওয়ার সময় স্পষ্ট নির্দেশ দিলেও শুভেন্দু কিভাবে সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছেন তা নিয়ে তৈরি হয় নতুন বিতর্ক। যদিও শুভেন্দুকে সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দুর স্পষ্ট জবাব, কোনও দলের নেতা হয়ে নয়, আমি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে এখানে এসেছি। সুতরাং কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। বরং, আমরা নিয়ম-কানুন, আদালত মেনে চলি। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি বলেন, এমন ভাব করেন যেন এটা আলাদা একটা রাষ্ট্র এবং তিনি এর প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দেশবিরোধী মনোভাব স্পষ্ট।