প্রিয়াঙ্কা মান্না | কলকাতা সারাদিন
ভিড়ে গমগম করা হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনে এবার থাকছে কড়া নজরদারি। মহিলাদের উপর যৌন হেনস্থার ঘটনা রুখতে এই দুই স্টেশনে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক AI (Artificial Intelligence) ভিত্তিক ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরা। কেন্দ্র সরকারের ‘সেফ সিটি’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিয়ালদহ আরপিএফের সিনিয়র কমান্ড্যান্ট মনোজকুমার সিং জানান, শিয়ালদহ স্টেশনে বর্তমানে ২৩৯টি ক্যামেরা রয়েছে। নতুন প্রকল্প অনুযায়ী, আগামী বছরে আরও ৫০০টি AI প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা বসানো হবে। হাওড়া স্টেশনেও একই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হবে। মূলত, যেসব ব্যক্তি যৌন অপরাধে জড়িত, তাদের আগেই শনাক্ত করতেই এই ব্যবস্থা।
এই ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম মানুষের মুখের গঠন বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ন্যাশনাল ডেটাবেস অন সেক্সুয়াল অফেন্ডার্স (NDSO)-এ বর্তমানে ২০ লক্ষের বেশি যৌন অপরাধীর তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। এই প্রযুক্তি সেই তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গেই যুক্ত থাকবে। ফলে দাগী অপরাধীরা সহজেই চিহ্নিত হবে।
শুধু হাওড়া বা শিয়ালদহ নয়, একই ধরনের ক্যামেরা বসানো হবে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, নয়াদিল্লি, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও আহমেদাবাদ স্টেশনেও। সব মিলিয়ে দেশের সাতটি প্রধান স্টেশনে এই নজরদারি চালু হচ্ছে।
পূর্ব রেলের আরপিএফ IG অমিয়নন্দন সিনহা জানিয়েছেন, এই ক্যামেরাগুলি শুধু নজরদারি নয়, মশগুল ভিড়ের মধ্যে অপরাধী শনাক্ত করতে বিশেষভাবে সক্ষম। এমনকি তারা অপরাধী ঘোরাঘুরি করলেই অ্যালার্ট দেবে। জশিডি অঞ্চলে চলা শ্রাবণী মেলায় এই ক্যামেরা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ইতিমধ্যে পরীক্ষিত।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের যাত্রা আরও নিরাপদ হবে বলে আশাবাদী রেল কর্তৃপক্ষ। শুধু মুখ চেনা নয়, AI প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহভাজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণও করা সম্ভব। ফলে আগেভাগেই বিপদের সম্ভাবনা আঁচ করা যাবে।
কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই-সহ মোট আটটি মেট্রো শহরে ইতিমধ্যে চালু হয়েছে ‘Safe City’ প্রকল্প, যেখানে সিসিটিভি, AI ক্যামেরা, ড্রোনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। এবার সেই প্রযুক্তি আরও শক্তিশালী করে তোলা হচ্ছে রেল স্টেশনে।
আরপিএফ ও জিআরপি সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের অপরাধীদের ছবিও এখন থেকে ওই কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ অপরাধ রোখার ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা সহায়ক হবে।
এআই-চালিত নজরদারি শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, নারীদের আত্মবিশ্বাসের বিষয়ও। স্টেশনগুলিতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে যৌন হেনস্থার ঘটনা অনেকটাই হ্রাস পাবে, এমনটাই আশা করছেন রেল আধিকারিকরা।