সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
পাঁচ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে খুলছে আকাশপথের নতুন দরজা। পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার Kolkata থেকে চীনের বাণিজ্যিক রাজধানী Shanghai—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে শুরু হতে চলেছে সরাসরি বিমান পরিষেবা।
আগামী ২৯ মার্চ থেকে প্রতিদিন উড়বে এই ফ্লাইট, যা শুধু যাত্রী পরিবহণ নয়, কূটনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বড় বার্তা বহন করছে।
সাংহাইয়ে রংয়ের উৎসবের অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন ভারতের কনসাল জেনারেল প্রতীক মাথুর। তিনি জানান, বেসরকারি বিমান সংস্থা IndiGo প্রতিদিন কলকাতা–সাংহাই রুটে ফ্লাইট চালু করছে। ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক এ-৩২০ এয়ারবাস।
সূচি অনুযায়ী, কলকাতা থেকে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ছাড়বে ৬ই–১৭০৯ উড়ান এবং ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে পৌঁছবে সাংহাইয়ে। ফিরতি পথে সাংহাই থেকে ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে ছাড়বে ৬ই–১৭১০ এবং সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে নামবে কলকাতায়। সময়সূচি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী এবং পর্যটকদের সুবিধা হয়।
গত বছর দুর্গাপুজোর পরই কলকাতা থেকে চীনের গুয়াংঝৌ পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছিল ইন্ডিগো। সেই পদক্ষেপ ছিল দুই দেশের মধ্যে বরফ গলার প্রথম ইঙ্গিত। ২০২০ সালের Galwan Valley clash-এর পর ভারত–চীন সম্পর্কের টানাপোড়েন আকাশপথেও প্রভাব ফেলেছিল। একের পর এক সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে গত অক্টোবর মাসে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, পাঁচ বছর পর দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল ফের শুরু হতে চলেছে।
আসলে বিষয়টি কেবল একটি নতুন রুট চালু হওয়া নয়। পূর্ব ভারতের শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিয়ে রাজ্য সরকারের প্রচারের মাঝেই এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ। কলকাতা দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ব ভারতের বাণিজ্যিক হাব। চীনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ মানে আমদানি–রফতানির সময় ও খরচ কমা, দ্রুত ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা।
এখানে উল্লেখযোগ্য, গত বছরের ৯ নভেম্বর থেকে দিল্লি–সাংহাই রুটে সপ্তাহে তিন দিন ফ্লাইট শুরু করেছে চীনের সরকারি বিমান সংস্থা China Eastern Airlines। কিন্তু পূর্ব ভারতের জন্য সরাসরি কোনও সংযোগ ছিল না। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই এবার কলকাতা–সাংহাই রুটের সূচনা।
আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রেক্ষাপটও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বৈশ্বিক মেরুকরণের সময়ে ভারত একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখছে, তেমনই বাণিজ্যিক স্বার্থে চীনের সঙ্গেও বাস্তববাদী অবস্থান নিচ্ছে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক বৈঠকগুলির পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিত মিলছিলই। এই ফ্লাইট সেই ধারারই পরিণতি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কলকাতা–সাংহাই সরাসরি ফ্লাইট কেবল একটি বিমান পরিষেবা নয়; এটি পূর্ব ভারতের অর্থনীতি, উচ্চশিক্ষা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
এখন নজর থাকবে যাত্রী সাড়া ও বাণিজ্যিক প্রভাবের দিকে। তবে আকাশপথে এই সংযোগ যে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্থনৈতিক সেতুবন্ধনের ভিত্তি গড়ে দেবে, তা নিয়ে সংশয় খুব কম।