সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
বছর ঘুরলেই বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। তবে এক বছর বাকি থাকতেই বাংলায় নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সাংগঠনিক সভা থেকে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে রীতিমত তথ্যপ্রমাণ সামনে এনে অভিযোগ করেন বাংলার লক্ষ লক্ষ ভোটারের এপিক নম্বরে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন ভুতুড়ে ভোটার ঢুকিয়ে দিয়েছে গুজরাট হরিয়ানা পাঞ্জাব রাজস্থান থেকে। শুধু মুখের কথাই নয় কার্যক্ষেত্র দেখা যায় মমতার অভিযোগের সত্যতা রয়েছে।
মমতার অভিযোগ মান্যতা দিয়ে গতকাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে আগামী তিন মাসের মধ্যে গোটা দেশ জুড়ে এই সমস্ত ভুতুড়ে ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেবে নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগেই এবারে কলকাতার রাস্তায় ভুতুড়ে ভোটার তাড়ানোর দাবি তুলে মহা মিছিল করল বাংলা পক্ষ। সেই সঙ্গে দাবি তুলল বাংলার ভোটার লিস্টে নাম থাকার পাশাপাশি গুজরাত রাজস্থান হরিয়ানা অথবা পাঞ্জাব দিল্লির মতো অন্য রাজ্যের ভোটার তালিকা তেও যে সমস্ত ব্যক্তির নাম রয়েছে অবিলম্বে তাদের জাতি ধর্ম নির্বিশেষে গ্রেফতার করতে হবে।
এর পাশাপাশি বহিরাগত ক্রিমিনাল মুক্ত বাংলা গড়ার দাবিতে আজ কলকাতার রাজপথে বাংলা পক্ষ ঢাকা মহা মিছিলে পা মেলালো হাজার হাজার মানুষ। দাবি উঠলো, বাংলায় লাখ লাখ এমন বহিরাগত আছে যাদের বাংলার সাথে সাথে তাদের আসল রাজ্য মানে দুটো রাজ্যে ভোটার কার্ড আছে। তারা তো জালিয়াত ও ক্রিমিনাল। তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। বহিরাগত ক্রিমিনাল ও রোহিঙ্গামুক্ত ভোটার লিস্ট চাই। এই দাবিতে বাংলা পক্ষ আজ কলকাতার এক্সাইড মোড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত বিরাট মিছিল করল। মিছিলে হাজার হাজার বাঙালি অংশ নেয়। মিছিলে গর্জন ওঠে, “দুই রাজ্যে ভোট যাদের, বাংলা থেকে তাড়াও তাদের।”
মিছিলে নেতৃত্ব দেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়।

গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাংলার ভোটার লিস্টকে শুদ্ধ করতে হবে। বাংলা পক্ষ দীর্ঘদিন যা বলছে, আজ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সহ অনেকেই সেটা বলছে। আমরা জানি বাংলা পক্ষ ঠিক বলছে এতদিন। যাদের দু রাজ্যে ভোটার কার্ড আছে, তাদের বাংলা ছাড়া করতে হবে। কারণ তারা ক্রিমিনাল। আমরা বাংলায় রাইরের রাজ্য বা রোহিঙ্গা ক্রিমিনাল চাই না। সরকার- প্রশাসন, সাধারণ বাঙালি সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।”

কৌশিক মাইতি বলেন, “বাংলা পক্ষ যা বলে, অনেক পরে বাকিরা বোঝে। কারণ বাংলা পক্ষ বাঙালির এ টিম৷ বাঙালির অধিকার সুনিশ্চিত করতে বহিরাগত ক্রিমিনাল মুক্ত বাংলা গড়তে হবে। কারণ ওদের সংখ্যা বাড়লে চাকরি-কাজ-ব্যবসা দখল হয়। ক্রাইম বাড়ে। ভোটার লিস্ট শুদ্ধ করার সময় এসে
গেছে।”