সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘পরিবর্তন যাত্রায় যা ভিড় হচ্ছে, জেসিবির মাটি কাটা দেখতেও এর চেয়ে বেশি মানুষ জড়ো হবে।’ এভাবেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাল্টা জনসভা করে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রাকে তীব্র ব্যঙ্গ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বক্তব্যের শুরুতেই দু’দিনের সভায় মানুষের উপস্থিতি টেনে বিজেপিকে কটাক্ষ করলেন অভিষেক। একদিকে, রবিবার তৃণমূলের সভায় দলের কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখে মুগ্ধ অভিষেক। অন্যদিকে, অমিত শাহর সভার প্রসঙ্গ টেনে বললেন, ‘পাঁচদিন আগে তিনি এখানে সভা করে গিয়েছিলেন, পুরো সময়টাই ক্যামেরা তাঁর দিকে ছিল। উল্টোদিকে হাতে গোনা মানুষ আর দেখানো হয়নি।’
মথুরাপুরের সভা থেকে অমিত শাহ অভিযোগ তুলেছিলেন, বাংলার ঋণের পরিসংখ্যান ৮ লক্ষ কোটি টাকা। কোনও শিশু যদি বাংলায় জন্মায়, তাহলে সে ৭৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে জন্মাবে। এর জবাবে অভিষেক বলেন, ‘কী পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেছেন, আপনারা দেখেছেন। কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালাচ্ছেন।’
মোদী জমানায় দেশের ঋণের পরিসংখ্যান তুলে তৃণমূলের সাংসদের দাবি, ‘২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার আগে দেশে ঋণের পরিসংখ্যান ছিল ৫৬ লক্ষ কোটি টাকা, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ১২ বছর পরে ভারতবর্ষের ঋণের পরিসংখ্যান হচ্ছে ১৯৭ লক্ষ কোটি টাকা। একটা শিশু ভারতে জন্মালে তার মাথায় ঋণের বোঝা চাপবে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা, এর দায় একমাত্র নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহর।’ এই পরিসংখ্যান মিথ্যে হলে মামলা করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন অভিষেক। অমিত শাহ মথুরাপুরের সভা থেকে রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
এর উত্তরে কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘অমিত শাহের দফতরের অধীনস্থ এনসিআরবি-র রিপোর্ট বলছে, মহিলাদের উপর সমস্ত রকম নির্যাতন-অপমানের ক্ষেত্রে দেশে প্রথম স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ (৬৬,৩৮১টি অভিযোগ), দ্বিতীয় মহারাষ্ট্র (৪৭,১০১), তৃতীয় রাজস্থান (৪৫,৪৫০)।’

বাংলার উন্নয়ন ও প্রকল্পকে হাতিয়ার করে অমিত শাহকে ফের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে কাজ করেছে, বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার কোনও রাজ্যে সিকিভাগ কাজ করেছে, আমি রাজনীতির আঙিনায় পা রাখব না।’ ‘আপনি জায়গা ঠিক করুন, সময় ঠিক করুন, পরিসংখ্যান দিয়ে ১০-০ গোলে মাঠছাড়া করে দেব।’ যোগ করেন তৃণমূল সাংসদ। মিথ্য প্রমাণ না করতে পারলে এই মথুরাপুরে এসে মানুষের সামনে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেন অভিষেক।