শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“সনাতন ধর্ম যতদিন থাকবে ততদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জারি থাকবে।” দাবি তুলে প্রয়াগের কুম্ভ মেলাকে বিধানসভায় ‘মৃত্যুকুম্ভ’ বলে উল্লেখ করায় এবার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যপালের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেন বিজেপি বিধায়করা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজভবনে যান বিজেপি বিধায়করা। সেখানে রাজ্যপালের কাছে বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্য বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বেরিয়ে এসে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হিন্দুদের ভাবাবেগের ওপরে আঘাত করার ৪৮ ঘণ্টা পরেও মুখ্যমন্ত্রীর কোনও তাপ উত্তাপ নেই। কোনও অনুশোচনা নেই। রাজ্যপাল মহাশয়ের কাছে আমরা মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্য বিধানসভার কার্যবিবণী থেকে বাদ দিতে অনুরোধ করেছি। শ্যামাপ্রসাদের বাংলায় মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য কার্যবিবরণীতে থাকা উচিত নয়। রাজ্যপাল আমাদের বলেছেন, ‘আমি কুম্ভে গিয়েছি। সেখানে পুণ্যস্নান করেছি। তিনি বলেছেন, মৃত্যুঞ্জয় মহাকুম্ভ। আর মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ‘মৃত্যুকুম্ভ”। আমাদের এই প্রতিবাদ জারি থাকবে। যতদিন সনাতন ধর্ম থাকবে এই প্রতিবাদ চলবে।”
প্রসঙ্গত, বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মহাকুম্ভ আমি নাই বা বললাম। ওটা এখন মৃত্যুকুম্ভ হয়ে গিয়েছে। মৃত্যুকূপের মতো।’ এর পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সমাজের একাংশে। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন সাধু-সন্ত ও বিজেপি নেতারা। এবার মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে সরব হল বিজেপি। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও জানাল তারা।
এদিন শুভেন্দুবাবু বলেন, “১০ বছর আগে হজে গিয়ে ২ জন তীর্থযাত্রী মারা গিয়েছিলেন। দুঃখজনক। আমাদের সমবেদনা আছে। তাঁরাও আমাদের রাজ্যের বাসিন্দা। আমাদের দেশের নাগরিক। মুখ্যমন্ত্রী সরকারি টাকায় তাদের ১০ লক্ষ টাকা করে চেক দিয়েছিলেন। কোন ফান্ড থেকে দিয়েছিলেন জানি না। কুম্ভে পদপিষ্টের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের ৩ জন চিহ্নিত হয়েছেন। ইতিমধ্যে উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার তাদের অ্যাকাউন্টে ২৫ লক্ষ টাকা করে পাঠিয়ে দিয়েছে। তারা চেক পেয়েছে, আমাদের বলেছে। এক যাত্রায় তো পৃথক ফল হতে পারে না।”
এর পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আপনি তো বলেছেন, আমি সবাইকে সমান চোখে দেখি। আপনি তো বলেছেন, আপনি সেকুলার। আপনি তো বলেছেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। তাহলে আপনি এক্ষেত্রেও উপযুক্ত সমপরিমাণ অর্থ কেন দেবেন না। এই পরামর্শ যেন রাজ্যপাল রাজ্য সরকারকে দেন।”