শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
আতঙ্কে কাঁপছে পাকিস্তান। পহেলগাঁও কাণ্ডের পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে প্রায় যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সেনা একাধিক ভিডিও প্রকাশ করে ‘যুদ্ধে’র জন্য প্রস্তুত বলে একপ্রকার হুশিয়ারি দিয়েছে। এরই মধ্যে রবিবার সন্ধ্য়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করলন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান।
সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কে আবগত করেছেন সিডিএস।
পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের নৃশংস হত্যালীলার পরে ভারতীয় স্থলসেনা, নৌসেনা এবং বিমান বাহিনীকে হাই এলার্টয়ে রাখা হয়েছে। তিন বাহিনীর তরফে যুদ্ধের মহড়াও করা হয়েছে। যুদ্ধ প্রস্তুতির বেশ কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে তিন বাহিনী।
যুদ্ধের বাদ্যি বেজে ওঠায় সীমান্ত থেকে গ্রামবাসীরা নিরাপদে সরে গিয়েছেন। এমনকি অব্যবহৃত বাঙ্কার বা মাটির তলে থাকা নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র পরিস্কার শুরু হয়েছে। যে কোনও মুহুর্তে যে প্রত্যাঘাত হতে পারে, তা ঘটনাপ্রবাহেই স্পষ্ট। যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ ব্রিকস বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শীর্ষ আমলাদেরও দিল্লি না ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম সীমান্তে যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনা থাকলেও পূর্ব এবং মধ্য ভারতের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে হওয়া এই সন্ত্রাসবাদী হামলা ছিল ভারতের মাটিতে সরচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা। এই হামলার পর সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে পড়শি দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একদিকে যেমন একাধিক কূটনৈতিক প্রত্যাঘাত করেছে ভারত সরকার।

ঠিক তেমনই যদি কোনওভাবে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয় তার জন্য প্রস্তুতিও শুরু করেছে। এই আবহে সর্বদল বৈঠক, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ-সহ একাধিক বৈঠকের কথা সামনে এসেছে। এরই মধ্যে রবিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সিডিএস-এর বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।