শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাকি রয়েছে প্রায় এক বছর। তবে সময় থাকতে থাকতেই বাংলা বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফর শেষ হতে না হতেই উত্তরবঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ২৯ মে আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশ্য জনসভা। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, এই জনসভার মঞ্চ থেকেই ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিতে পারেন মোদী। তার আগে আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ড ঘুরে দেখলেন বিজেপি-র রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব। পুরোদমে শুরু মেগা সভার প্রস্তুতি।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত তৎপরপতা শুরু আলিপুরদুয়ারে। সভাস্থল দেখে এসেছেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ ও জেলা নেতৃত্ব। মোদীর সভা নিয়ে প্রশাসননিক মহলেও ব্যস্ততা তুঙ্গে। সভাস্থলে সর্বোচ্চ সুরক্ষার বন্দোবস্ত নিয়ে রীতিমতো তৎপর প্রশাসন। মনোজ টিগ্গা জানান, সম্প্রতি সেনাবাহিনীর সাফল্যমণ্ডিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর জওয়ানদের সম্মান জানাতেই প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনসভা করছেন। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই তিনি আলিপুরদুয়ারে আসছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশের মতে, এই জনসভার আড়ালে মূল উদ্দেশ্য হল ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রচারের আগাম সূচনা করা। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রচারে শেষবার আলিপুরদুয়ারে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। প্রায় এক দশক পর সেই একই জায়গা থেকে তিনি রাজ্যের আগামী নির্বাচনের কার্যত সুর বেঁধে দিতে চলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অপারেশন সিঁদুরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল দেশের বায়ুসেনার। মোদী উত্তরবঙ্গের যে এলাকায় সভা করতে চলেছেন তার খুব কাছেই রয়েছে হাসিমারা বায়ুসেনার ছাউনি। স্বাভাবিকভাবেই প্রধানমন্ত্রীর এই সভাস্থল নির্বাচন নিয়েও চর্চা বেড়েছে। এছাড়াও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এই মুহূর্তে চিকেনস নেকের গুরুত্ব নিয়েও জোরদার আলোচনা চলছে। তাছাড়াও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা এবং সর্বোপরি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্সের পরিস্থিতিও দারুণ চর্চায়। সেই কারণেই প্রকাশ্য জনসভা করতে আলিপুরদুয়ারের মতো একটি জায়গাকেই বেছে নিয়েছেন মোদী।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবরে জেলার বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লার তৃণমূলে যোগদান উত্তরবঙ্গে গেরুয়া শিবিরকে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ফেলেছিল। বার্লা দাবি করেছিলেন, তিনি উত্তরবঙ্গকে ‘দিদি’র হাতে তুলে দেবেন এবং আরও এক বিজেপি নেতা তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। এর পাশাপাশি, কিছুদিন আগে মাদারিহাট বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির জেতা আসন তৃণমূলের দখলে চলে যায়। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর আলিপুরদুয়ার সফর পদ্ম শিবিরকে নতুন করে অক্সিজেন জোগাবে এবং দলের কর্মীদের মনোবল অনেকটাই চাঙ্গা করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সব মিলিয়ে, ২৯ মে-র জনসভা রাজ্য রাজনীতির আগামী গতি প্রকৃতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।