কলকাতা সারাদিন ডেস্ক।
রাজনীতি এবং পেশাদারিত্বের বাইরে বেরিয়ে উদ্যোগ নিলেন নৈহাটির তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে।
দুঃস্থ সাংবাদিকের বাড়ি নিজের ভাতা থেকে সংস্কার করার সিদ্ধান্ত তৃণমূল বিধায়কের। দুঃস্থ সাংবাদিক এর ভেঙে পড়া বাড়ি নিজের উদ্যোগে সংস্কার করে দিলেন বিধায়ক।
উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির আদি বাসিন্দা বিশিষ্ট সাংবাদিক মহান্ত দাস গুপ্ত প্রচুর আর্থিক সমস্যার মধ্যেও নিজের অর্থেই একটি ডিজিটাল মিডিয়া এবং একটি মাসিক পত্রিকা চালান তিনি বাস্তব হলেও এটাও সত্যি অর্ধেক দিনই কার্যত খাবার বন্দোবস্ত করতে পারেন না।
ঘরে অসুস্থ স্ত্রী দুই সন্তানের রোজগারও প্রায় শূন্য দুই ছেলে রোজগারের আশায় কলকাতায় থাকেন তাদেরও সামর্থ্য নেই বাবা-মাকে দেখার সবকিছু মেনে নিলেও সমস্যা দ্বারা বাড়ি নিয়ে আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় নিজের বাড়ি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কারের চিন্তা মাথাতে আনতে পারেননি এই সাংবাদিক।
স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টিতে কার্যত চরম সমস্যায় মুখোমুখি পড়তে হয় তার পরিবারকে। সাংবাদিকের এই দুরবস্থার কথা ভয়েস অব মিডিয়ার রাজ্য কমিটির মাধ্যমে কানে যায় নৈহাটি’র স্থানীয় বিধায়ক সনৎ দে’র। শুক্রবার নিজে সেই সাংবাদিক এর বাড়ি গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।

এবং সিদ্ধান্ত নেন বিধায়ক হিসাবে নিজের ভাতা থেকে মহন্ত দাশগুপ্ত’র বাড়িটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন। বিধায়ক সনৎ দে’র বক্তব্য.” সর্বদা হাসিখুশি প্রানচ্ছল মোহন্ত দা’কে নৈহাটির প্রায় সব মানুষই চেনেন। পেশায় সাংবাদিক। ৩৫বছর ধরে এই পেশায় রয়েছেন। সামনে থেকে তাঁকে এতোবার দেখেছি, কথা বলেছি কোনো দিন তার এই রূপ দৈনদশার কথা আমাদের বলেননি। তাকে দেখে বোঝার উপায়ও নেই। দেখা হলেই হাঁসি ঠাট্টায় মেতে ওঠেন। আজ আমাদের পৌর কাউন্সিলর সুশীল দা ও কৌশিক আমাকে তাঁর এই ভয়ঙ্কর দুরবস্থার কথা জানান। সাথে সাংবাদিকও সংঘঠন ভয়েস অফ মিডিয়াও মহন্ত দা’র বিষয়টি আমাকে গোটা বিষয় জানায়। আমি দেরি না করে আমি উনার দেখতে যাই। এবং মোহন্ত দা’র পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নি। ঠিক করি বিধায়ক হিসাবে যে ভাতা পাই সেই ভাতার অর্থে নতুন করে মহন্ত দা’র ঘরটি তৈরী করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি.”

গোটা ঘটনায় অভিভূত মহন্ত দাশগুপ্ত। কার্যত চোখে জল তার। বিধায়ক নিজের অর্থে এই বাড়ি সারিয়ে দিচ্ছেন l গোটা টা যেন তার কাছে স্বপ্নের মতো। মহন্ত দাশগুপ্ত’র, বক্তব্য. ” আমি আমার এই যন্ত্রনার কথা কাউকে কোনোদিন বলিনি। তবে অনেকেই জানতো। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। আজ যেভাবে বিধায়ক আমার পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন। নিজের ভাতা থেকে আমার বাড়ি সারিয়ে দিচ্ছেন। আমি কী ভাবে কৃতজ্ঞতা জানাবো বুঝতে পারছি না আমাদের বিধায়ক আমাদের অহংকার আমাদের গর্ব তুমি যে কাজের মানুষ। এবং মানবিক প্রমাণ করলেন।।”