শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছেন আপাতত আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। এই চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিতে হবে রাজ্যকে। ততদিন শিক্ষাকর্মীরা কোনও ভাতা পাবেন না। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির এই স্থগিতাদেশের পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
শুভেন্দু বলেন, “২০১১ সাল থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এই ধরনের ভাতা দেওয়ার কাজ করেন। কিন্তু এবার কোর্ট একটা ব্যাপারে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আমার কথা হচ্ছে, যদি ভাতা দিতেই হয় তাহলে ‘১৬ সালে গ্রুপ সি ও ডি-র যারা অ্যাডমিট কার্ড পেয়েছিল, প্রত্যেককে ভাতা দেওয়া উচিত। ওঁর যদি টাকা বেশি হয়ে থাকে তাহলে বলব, দিদি যদি ভাতা দিতেই হয়, তাহলে কেন যাদের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি গেছে, তাদের দিচ্ছেন? সকলকে দিন।”
বিচারপতি সিনহা তাঁর দেওয়া আদেশের ৩৮ নম্বর পয়েন্টে বলেছেন, “রিট পিটিশনের মাধ্যমে এই প্রকল্পকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নির্দিষ্ট কিছু বেকার ব্যক্তিকে আর্থিক সুবিধা প্রদান করে অন্যদের বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক আচরণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের অবশ্যই আইনগত ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা কল্যাণমূলক ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে পারে। তবে একইভাবে একই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে একই নিয়মে। এক্ষেত্রে যখন দুই পক্ষের মানুষই ক্ষুধার্ত রয়েছে, তখন রাজ্য কেবল নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে খাবার সরবরাহ করতে পারে না এবং অন্যদের অনাহারে থাকতে দিতে পারে না। বিশেষ করে যখন সমস্ত পক্ষ একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিল?”
কার্যত সেই প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু বলেন, “কোর্ট আজ যে রায় দিয়েছে সেই রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানবেন কিনা সন্দেহ আছে। কারণ ওবিসি রিজার্ভেশন দিয়ে যে অর্ডার কোর্ট দিয়েছে, তার পরেও শিক্ষা দফতরের ভর্তির ওয়েবসাইটে দেখবেন অ্যাডমিশনের কাজ চলছে। তিন-চারদিন হয়ে গেল মাননীয় বিচারপতিদ্বয় যে রায় দিয়েছিলেন, সেই অর্ডার এখনও মানা হয়নি। এখন না মানলে বিচারব্যবস্থায় ঠিক হবে, তারা কী সিদ্ধান্ত নেবে। আদালত অবমাননা হলে ব্রাত্য বসু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা ভাইপো জেলে যাবেন না। রাজ্যের মুখ্যসচিব, অর্থসচিব, শিক্ষাসচিব জেলে যাবেন। কাজেই তাঁরা জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হন, ব্যাগ গোছান। আপনারা তো শিরদাঁড়া খুলে রেখে এসে নবান্নে বসে আছেন, তাই আপনাদের এই পরিণতিই হবে। একটা সময় চিটফান্ড কাণ্ডে বন্ধ হয়ে চাওয়া চ্যানেলের কর্মীদের রিলিফ ফান্ড থেকে কখনও দশ হাজার, কুড়ি হাজার করে ভাতা দিয়েছিলেন। যা চূড়ান্ত অপরাধ। এভাবে টাকা দেওয়া যায় না। বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমি কলকাতা হাইকোর্টের আজকের রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি।”
শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি মমতাকে তীব্র আক্রমণ করেছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীও। প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর কথায়, “বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে করছেন। এই প্রক্রিয়া শুরুর আগেই জানতেন যে এটা বেআইনি। তাও এটা করেছেন। তাই সবথেকে বড় অপরাধী যদি কেউ থেকে থাকেন, তিনি হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
পশ্চিমবঙ্গ দিবসে শ্যামাপ্রসাদকে শ্রদ্ধা
অন্যদিকে, ২০শে জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, মুসলিম লীগের দাবি ছিল গোটা বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করা, কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অটল প্রতিরোধ এবং তাঁর উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভার রায়ে পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি হয়। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে বাঙালি হিন্দুরা ভারতবর্ষের নাগরিক হিসেবে পরিচয় পেয়েছেন। শুভেন্দু তাঁর পোস্টে শ্যামাপ্রসাদের প্রতি শত কোটি প্রণাম জানিয়ে তাঁর অবদানকে কুর্নিশ করেছেন।