প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
“জয় বাংলা, জয় হিন্দ” লেখা ব্যাজ, সঙ্গে বাংলার মহান মনীষীদের ছবি—এই প্রতীকী প্রতিবাদেই সংসদে হাজির হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। কিন্তু সেই ব্যাজ পরেই রাজ্যসভায় প্রবেশে আপত্তির মুখে পড়লেন তাঁরা। ঘটনাটি নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন—এটি বাংলার মনীষীদের অবমাননা এবং বাংলার সংস্কৃতিকে ছোট করার চেষ্টা।
কী ছিল সেই ব্যাজে?
৮ আগস্ট, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একটি বিশেষ ব্যাজ তৈরি করা হয়। তাতে ছিল:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
রামকৃষ্ণ পরমহংস
রাজা রামমোহন রায়
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ক্ষুদিরাম বসু
বিনয়-বাদল-দীনেশ
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখদের ছবি
উপরের দিকে লেখা ছিল “জয় হিন্দ”, এবং নিচে লেখা “জয় বাংলা”—দুটি বাক্যই বাংলার ইতিহাসে গভীরভাবে প্রোথিত।
কেন আপত্তি?
তৃণমূলের অভিযোগ, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং এই ব্যাজ পরে সাংসদদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশে আপত্তি জানান। যদিও সংসদীয় নিয়মে প্ল্যাকার্ড বা হোর্ডিং নিষিদ্ধ, তৃণমূল সাংসদদের দাবি—ব্যক্তিগতভাবে ব্যাজ পরা কোনওরকম নিয়ম ভঙ্গ নয়।
ঋতব্রতর কথায়, “আমরা কোনও স্লোগান তুলিনি, প্ল্যাকার্ড দেখাইনি। শুধুমাত্র বাংলার মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্যাজ পরেছিলাম। তাতেও আপত্তি কেন? এটা তো বাংলারই অসম্মান।”
তৃণমূলের ক্ষোভ ও বার্তা
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত রচয়িতা, রামমোহন ভারতীয় আধুনিকতার প্রথম প্রতিনিধি। বাংলা ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্রদূত। আজ তাঁদের ছবি ও নাম ব্যাজে থাকলেও, রাজ্যসভায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে—এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া কিছুই নয়।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “২০২৬ সালের ভোটে বাংলার মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।”
রাজনীতির কেন্দ্রে ‘বাংলা পরিচয়’
গত কয়েক মাসে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অত্যাচার, বাংলা ভাষা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, এবং রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে উত্তপ্ত হয়েছে দেশের রাজনৈতিক আবহ। এই ব্যাজ বিতর্ক যেন সেই উত্তাপেরই আরও একটি ধাপ।
তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট করে দিয়েছে—বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি এবং ইতিহাস নিয়ে কোনও আপস তারা করবে না। জাতীয় স্তরে ‘বাঙালি পরিচয়’ ও আত্মসম্মান রক্ষার লড়াই জারি থাকবে।

TMC badge Bengali icons controversy একদিকে সংসদের নিয়ম-কানুনের প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে বাঙালি আবেগ এবং জাতীয়তাবাদী ইতিহাসের প্রতি সম্মান দেখানোর যুক্তি দিয়েছে তৃণমূল। যে প্রশ্ন এখন উঠছে—মনীষীদের ছবি নিয়ে যদি আপত্তি ওঠে, তবে সত্যিই কি বাংলা ও বাঙালির অস্তিত্ব রাজনীতির মূল টার্গেটে পরিণত হচ্ছে?