রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে ফের রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বহু কোটি টাকার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় বর্তমানে জেলবন্দি এই তৃণমূল নেতা— কিন্তু বিজেপির দাবি, কারাগারের ভেতর থেকেও তিনি প্রভাব খাটাচ্ছেন।
বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা এক সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ করেছেন— “পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেল থেকে পছন্দের লোককে উপাচার্য পদে বসানোর জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছেন। নিজের আমলের দুর্নীতি ঢাকতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন।”
ছবিই নাকি প্রমাণ
সাংবাদিক বৈঠকে শঙ্কুদেব একটি ছবি দেখান, যেখানে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যাচ্ছে রানী রাসমণি গ্রিন ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের সঙ্গে। বিজেপি নেতার দাবি— এই সম্পর্কই প্রমাণ করে, জেলের ভেতর থেকেও পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে চাইছেন।
শঙ্কুদেবের কথায়— “রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কলঙ্কিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে জেল থেকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষপদে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ হলে শিক্ষার মান ধ্বংস হবে।”
আশুতোষ ঘোষের পাল্টা দাবি
তবে আশুতোষ ঘোষ এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য— “আমি কখনও কোনও বেআইনি কাজে জড়িত নই। ছবি থাকা মানেই সম্পর্ক বা ষড়যন্ত্র নয়। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ।”
তিনি আরও জানান, উপাচার্য পদে বসানো বা নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও আলোচনাই তাঁর সঙ্গে হয়নি।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও বিতর্কের দীর্ঘ ইতিহাস
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা মহলের বিতর্কিত তালিকায়। ২০২২ সালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। তবুও, বিরোধীদের অভিযোগ— জেলের ভেতর থেকেও তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব রয়ে গেছে।
বিজেপি এই ঘটনাকে বড় ইস্যু করে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে। তাদের মতে, এটি রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের স্পষ্ট প্রমাণ।
রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন অধ্যায়
এই অভিযোগ–প্রত্যাখ্যানের লড়াই এখন রাজনীতির ময়দানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিজেপি এই বিষয়টি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, অন্যদিকে তৃণমূল ও অভিযুক্তরা বলছে— এটি শুধু রাজনৈতিক নাটক।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় সত্যিই জেল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন কিনা, তার প্রমাণ এখনও আদালতের হাতে আসেনি। কিন্তু এই বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে, তা বলাই যায়। আগামী দিনে এই মামলার অগ্রগতি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াই ঠিক করবে— অভিযোগ কতটা সত্য, আর কতটা রাজনীতির খেলা।