বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চে আবারও আলোচনায় উঠে এল Bangla Pokkho protest Asansol। ২৪ আগস্ট আসানসোলে বাংলা পক্ষ একটি বিশাল মিছিল করে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের উপর চলতে থাকা “বাংলাদেশি” দাগিয়ে অত্যাচারের প্রতিবাদ জানাল।
মিছিল শুরু হয় আসানসোল বাসস্ট্যান্ড থেকে এবং শেষ হয় আশ্রম মোড় পর্যন্ত। এদিনের মিছিলে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তাদের দাবি একটাই—বাঙালিদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং বাংলার কাজ বাংলার মানুষকেই দিতে হবে।
বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালির উপর নির্যাতনের অভিযোগ
বাংলা পক্ষর দাবি, বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালিদের উপর ভয়ঙ্কর নির্যাতন চলছে। শুধু বাংলায় কথা বলার জন্যই তাদের “বাংলাদেশি” বলে তকমা দেওয়া হচ্ছে। বহু মানুষকে আটক করে ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি করা হচ্ছে।
এই অত্যাচারের কারণে হাজার হাজার বাঙালি শ্রমিক কাজ হারিয়ে রাজ্যে ফিরে আসছে। অথচ বাংলার শিল্পাঞ্চলগুলোতে কাজ দখল করে নিয়েছে বহিরাগতরা। আসানসোল, বারাবনী, জামুড়িয়া, কুলটি, রানীগঞ্জের মতো এলাকায় বাংলার যুবকরা বেকার হয়ে বসে আছে, অথচ কাজ করছে বহিরাগতরা।
গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য
বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক ডঃ গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন: “হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী ও বাঙালি বিদ্বেষী বিজেপি আমাদের মাতৃভাষা, নাগরিকত্ব সবকিছুই কাড়তে চাইছে। তারা চায় বাঙালি জাতিকে ধ্বংস করতে। কিন্তু বাংলা পক্ষ তা হতে দেবে না। বাঙালি জেগে উঠেছে, জাতীয়তাবাদের ঝড় দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ আইন করতে হবে। ভিন রাজ্য থেকে ফিরে আসা বাঙালিদের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ—“বাংলায় কোটি কোটি বহিরাগত কাজ করছে, অথচ বাঙালিরা বেকার। এই অবিচার আর চলতে দেওয়া যাবে না।”
কৌশিক মাইতির দাবি
সংগঠনের সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন: “মুসলমান অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা তাড়ানোর নামে বিজেপি আসলে বাঙালি জাতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে ধর্ম নয়, ভাষাই আক্রমণের কারণ। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে হাজার হাজার বাঙালিকে ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি করা হয়েছে।”
তিনি জানান, “আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে আক্রান্ত। তাই প্রতিরোধও গড়ে তুলতে হবে বাঙালি জাতি হিসেবেই।”
পশ্চিম বর্ধমান জেলা নেতৃত্বের বক্তব্য
পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদক অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন: “আমাদের ছেলেরা বাইরের রাজ্যে বাঙালি বলে মার খাচ্ছে। অথচ উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে আসা বহিরাগতরা বাংলার প্রতিটি কাজ দখল করে বসে আছে। ফ্যাক্টরি থেকে অটো-টোটো, ফুটপাত থেকে ব্যবসা সব দখল হয়ে যাচ্ছে বহিরাগতদের হাতে। এমনকি রাজনীতিতেও তারা প্রভাব বিস্তার করছে।”
তিনি ঘোষণা করেন, এই মিছিল থেকে বাংলার শিল্পাঞ্চলে ফ্যাক্টরি, চাকরি, ব্যবসা ও কাজ পুনর্দখলের ডাক দেওয়া হলো।
মিছিলে ব্যাপক অংশগ্রহণ
বাংলা পক্ষর শীর্ষ পরিষদ সদস্য সম্রাট কর ও করবী রায় সহ জেলা ও বিধানসভা নেতৃত্বরা মিছিলে অংশ নেন। হাজার হাজার সাধারণ মানুষও যুক্ত হন। তারা বাঙালির উপর নির্যাতন বন্ধের পাশাপাশি বাংলায় বাঙালিদের জন্য সংরক্ষণ আইনের দাবি তোলেন।
আসানসোল শহরের রাস্তায় এদিন বাঙালিদের বিপুল ভিড় নজর কাড়ে। স্লোগান ওঠে—
“বাংলার কাজ বাংলার ছেলেদের জন্য চাই”
“বাংলাকে বাংলাদেশ বানানোর ষড়যন্ত্র চলবে না”
Bangla Pokkho protest Asansol দেখিয়ে দিল, বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে মানুষের মধ্যে গভীর ক্ষোভ জমে আছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের উপর হওয়া নির্যাতন এবং বাংলার কাজ বহিরাগতদের হাতে চলে যাওয়া নিয়ে মানুষের অসন্তোষ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বাংলা পক্ষ সেই ক্ষোভকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর